আল্লাহর নির্দেশ ও মনোবাসনাই প্রধান

313

ধর্ম ডেস্ক: মানবজীবনে পারস্পরিক সম্পর্ক-ভালোবাসা যেমন আছে, তেমনি আছে শত্রুতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কাউকে ভালো লাগলে তার সঙ্গে আমরা সম্পর্ক গড়ে তুলি। একপর্যায়ে তা নিবিড় সম্পর্কে গড়ায়। জন্ম দেয় ভালোবাসার। তেমনি কারো কোনো আচরণ বা কর্মকা-ে ত্যক্ত-বিরক্ত হলে আমরা শত্রুতা পোষণ করতে থাকি। এটা মানুষের জীবনের সহজাত বিষয়। এসব ক্ষেত্রে মানুষ স্বভাবতই দুর্বল। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় নিজের নিয়ন্ত্রণও থাকে না। তবে আল্লাহর প্রিয় বান্দা যারা, তারা নিজের ভালোলাগা ও মন্দলাগাকে সংযুক্ত করে দেন আল্লাহর সঙ্গে। তারা কারো সঙ্গে সম্পর্ক ও ভালোবাসা গড়ে তোলেন একমাত্র আল্লাহর জন্য। আবার কারো প্রতি শত্রুতাও পোষণ করেন আল্লাহর জন্যই। যারা নিজের ভালোবাসা ও শত্রুতাকে আল্লাহর ইচ্ছা ও চাহিদার ওপর ছেড়ে দেন, তাদের ইমানই পূর্ণতা লাভ করে।
তারাই আল্লাহর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাজন বলে পরিচিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, ওইসব ব্যক্তি কোথায়, যারা পৃথিবীতে আমার মহত্ত্বের দিকে লক্ষ্য রেখেই একে অপরকে ভালোবাসত? আজ আমি তাদের আমার ছায়ার নিচে আশ্রয় দেব। আজ আমার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া নেই।’ অন্য হাদিসে আছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার ভালোবাসা সে সব লোকের জন্য নির্ধারিত, যারা আমার উদ্দেশে পরস্পরের সঙ্গে বসে। আর আমার ভালোবাসা সে সব ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে, যারা আমার উদ্দেশে একে অপরের জন্য ধন-সম্পদ ব্যয় করে। আর আমার ভালোবাসা সে সব ব্যক্তির জন্য নির্ধারণ হয়েছে, যারা আমার উদ্দেশে পরস্পরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে।’ প্রিয় নবী (সা.)-এর জীবনের আদর্শ ছিল আল্লাহর জন্য সর্বতোভাবে নিবেদন। তিনি জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সবকিছু আল্লাহর চাহিদা ও নির্দেশনার সঙ্গে সংযুক্ত করে দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া, ক্ষোভ-বেদনা, আবেগ-আহ্লাদকে আল্লাহর নির্দেশ ও মনোবাসনার ওপর ছেড়ে দেয়াই হলো ইসলামের কাছে আত্মসমর্পণ। যারা নিজেকে পুরোপুরিই আল্লাহর কাছে সঁপে দিতে পেরেছেন, তারাই দুনিয়াতে সফল হয়েছেন। আল্লাহর নির্দেশ ও মনোবাসনার সামনে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কোনো মূল্য নেই। সব কিছুর মাপকাঠি হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহ যা পছন্দ করেন তা-ই করতে হবে; যা অপছন্দ করেন তা প্রিয় হলেও ছাড়তে হবে। এটাই হলো ইসলামের দাবি।