আলমডাঙ্গা পোলবাগুন্দায় অপহরণের ১০ দিন অতিবাহিত হলেও তানজিলের কোন সন্ধান মেলেনি অপহৃতকে উদ্ধার ও অপহরকচক্র গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত

422

আলমডাঙ্গা অফিস:  আলমডাঙ্গার পোল বাগুন্দা গ্রামের ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোর তানজিল অপহরণের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তার সন্ধান কিম্বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তানজিলকে ফেরত দিতে মুক্তিপন দাবি করে যে মোবাইল থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছিল সেই মোবাইলের মালিক আজানুরকে আটক করা হলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। তবে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ১ সপ্তাহ পর তানজিলের বাবার কাছে অপহরণকারীরা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলে অপহরণের ঘটনাটি সকলের সামনে চলে আসে। মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন স্বপরিবারে পালিয়ে গেলেও পুলিশ তার দূর সম্পর্কের চাচা ও মামাতো ভাইকে আটক করেছে। এ অপহরণের ১০ দিন অতিবাহিত হলেও গত শনিবার পর্যন্তও নিখোঁজ তানজিলকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও অপহরণ ঘটনায় ৩ জনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ অপহরণকারিচক্রকে আটক ও অপহৃতকে উদ্ধার করতে লক্ষণীয় তৎপরতা শুরু করেছে। জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের পোল বাগুন্দা গ্রামের চা’দোকানি সামরুল ইসলামের ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোর ছেলে তানজিল হোসেন। সে গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে মা’র সাথে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের দাবি এলাকার অনেকেই কিশোর তানজিল হোসেনকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারে দেখেছেন। পার্শ্ববতী আইলহাঁস গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আজানুর হুজুরের সাথে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করেও তানজিরকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবার বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। তানজিলের বাপ বাদি হয়ে এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এরই মধ্যে গত পরশু বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত ব্যক্তি মোবাইল ফোন থেকে তানজিলের বাপের মোবাইলফোনে রিং দিয়ে তানজিরকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করে। অজ্ঞাত ব্যক্তি সে সময় তানজিলের সাথে তার বাপের কথাও বলিয়ে দেয়। কথা বলার সময় তানজিল কান্নাকাটি করছিল বলে জানিয়েছে তার পরিবার। সে সময় অজ্ঞাত অপহরক তানজিলের মুক্তিপণ হিসেবে প্রথমে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। একজন দরিদ্র চা দোকানির পক্ষে এত মোটা অংকের টাকা দেওয়া অসম্ভব জানিয়ে কান্নাকাটির পর মুক্তিপণের পরিমাণ কিছুটা কমানো হয়। বলা হয় বিকাশে দিবি। একই দিনে আরও কয়েকবার মোবাইলফোনে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে চক্রটি। শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবির পরিমাণ ১ লাখ ৬০ হাজারে নামে। পুলিশ ও তানজিলের পরিবারসূত্রে জানা যায়, তানজিলের বাপের নিকট যে মোবাইলফোন থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়, পুলিশ সেই সিম ট্যাকিং করে জানতে পারেন-সিমটির মালিক আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্রীরামপুরের জনৈক ব্যক্তি, যিনি তানজিলদের গ্রাম লাগুয়া আইলহাসের আজানুর হুজুরের নানা শ্বশুর। আজানুর হুজুর (৩৪) আইলহাস গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। এলাকায় প্রতারক হুজুর নামেই তাকে চেনে। কয়েকদিন আগে আজানুর হুজুর তার নানা শ্বশুরের নিকট থেকে সিমটি চেয়ে নিয়ে সেই সিম দিয়ে এ মুক্তিপণ দাবি করেছে। এমন তথ্য গ্রামে চাউর হয়েছে। এদিকে, অবস্থা বেগতিক জেনে আজানুর হুজুর স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। গতকাল শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজানুরকে আটক করতে না পারলেও তার চাচা সর্ম্পকের খাইরুল ইসলামকে (৩৫) আটক করে। আটক খাইরুল মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে। এছাড়া পুলিশ আজানুরের আরেক আত্মীয় খাসকররা গ্রামের মৃত তৈয়ব জোয়ার্দ্দারের ছেলে মোনায়েমকেও (৩৫) আটক করে। এ অপহরণের ১ সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও গত বৃহস্পতিবার মুক্তিপণ দাবির পর থেকে পুলিশ অপহরণকারী চক্রকে আটক ও অপহৃতকে উদ্ধার করতে লক্ষণীয় তৎপরতা শুরু করেছে। এ অপহরণের মামলাটি গত রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা থেকে আলমডাঙ্গা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানা যায়। এরই অংশ হিসেবে এ ঘটনায় আটককৃত ২ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর থানা থেকে রাতে আলমডাঙ্গা থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আলমডাঙ্গা থানার এসআই জাবের সদর থানায় উপস্থিত ছিলেন। অপহৃতকে উদ্ধার ও অপহরকচক্রকে গ্রেফতারের জন্য ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে বলে গত রাতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে।