আলমডাঙ্গা পশুহাটে গরু বিক্রি করতে যাওয়ার পথে গরু ছিনতাইয়ের অভিযোগ ৫ গরু উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৮ : প্রতিবাদে লিখিত অভিযোগ

329

sdreআলমডাঙ্গা অফিস: গতকাল আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুর গ্রামের আলমগীর ৫টি গরু নিয়ে পৌর পশুহাটে বিক্রয় করতে যাওয়ার পথে উপজেলা চত্ত্বরের ভিতর বাপ্পি ও তার দলবল তার গরু ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আলম থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ৫টি গরু উদ্ধার করে এবং ৮ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। আলমঙ্গীর বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ২লাখ ৫০হাজার টাকার গরু ছিনতাইয়ের অভিযোগের মামলা করেছে। জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের নওশের আলীর ছেলে আলমঙ্গীর পাখি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়। তার স্ত্রী আলমডাঙ্গা হারদী হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করেন বিধায় আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুরের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী বসবাস করেন। তাদের জামাই ইমরানের সহায়তায় নিজ বাড়িতে গরু ব্যবসা শুরু করে। গতকাল বুধবার আলমডাঙ্গা পৌর পশুহাটে তার পালিত ৫টি গরু বিক্রয় করার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় উপজেলা চত্বরের মধ্যে উপস্থিত হলে গোবিন্দপুরের আইজালের ছেলে বাপ্পি ও তার জামাই গোবিন্দপুর স্কুলপাড়ার ইমদাদুল হকের ছেলে ইমরানের নেতৃত্বে প্রায় ১৫/২০ জনের একটি দল গরু ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আলম ও তার পরিবারের লোকজন থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নীলফামারি জেলার জলঢাকা উপজেলার কয়মারি গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে ইমরান (২৮) বর্তমান গোবিন্দপুর স্কুলপাড়া, গোবিন্দপুর দোয়ারপাড়া শফি উদ্দিনের ছেলে বিট্টু (১৯), গোবিন্দপুর আপান পাড়ার আরশাদের ছেলে আল-আমিন (২১), গোবিন্দপুর মিয়া পাড়ার ফরজন আলীর ছেলে রফিক (২৪), স্টেশনপাড়ার টগরের ছেলে অটল (১৯), গোবন্দপুর মুন্সিপাড়ার জহিরুলের ছেলে মেহেদি (১৯) ও দাশ পাড়ার আক্কাচের ছেলে ইরাদ (২০) কে আটক করে। এসময় আলমের ৫টি গরু উদ্ধার করে। সন্ধ্যায় আলমগীর বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিদের আজ চুয়াডাঙ্গা জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে। অন্যদিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক লিখিত অভিযোগপত্রে জানান, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আলম হোসেন বর্তমানে গোবিন্দপুরে বসবাস করে। তার বর্তমান স্ত্রী হারদী স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে চাকরি করছে। তার মেয়ের বর্তমান জামাই নীলফামারি জেলার জলঢাকা উপজেলার কয়মারি গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে ইমরান বর্তমানে গোবিন্দপুরে বসবাস করছে। আলমের মেয়ের সাথে বিয়ের পর ইমরানের কাছ থেকে ২ দফায় ৬ লক্ষ টাকা গরু ব্যবসা বাবদ ধার নেয়। সে ঢাকায় গরু বিক্রয়ের নামে ঢাকা থেকে ফিরে এসে ৩ লক্ষ টাকা ব্যবসায় লোকসান হয়েছে বলে জানান। এর পরবর্তীতে আবারও তার জামাই ইমরানের কাছ থেকে গরু কেনা বাবদ ২ লাখ ৪০হাজার টাকা এবং গরু খাওয়ানো বাবদ ৬০ হাজার টাকা ধার নেয়। বেশ কিছুদিন পর জামাই ইমরান তার হাতখরচ বাবদ শ্বশুরের কাছে ২ হাজার টাকা চাইলে শ্বশুর আলম দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ২ হাজার টাকা না পেয়ে জামাই ইমরান বুঝতে পারে তার শ্বশুর একজন বড় ধরনের প্রতারক। এরপর তার লগ্নিকিত ৬ লাখ টাকা শ্বশুরের কাছে ফেরত চায়। শ্বশুর আজ নয়, কাল, কাল নয় পড়শু বলে ঘোরাতে থাকে। এক পর্যায়ে সমাজের বিভিন্ন মানুষের দারস্থ হয় ইমরান। ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক জানায়, আমি ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ করি। সালিশে আলম ৩ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে দাবি করে। বাকি ৩ লাখ টাকা গরু বিক্রয়ের পর ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দেয়। কিন্তু কৌশলে আলম গতকাল বুধবার আলমডাঙ্গা পৌর পশু হাটের দিন ৫টি গরু বাড়ি থেকে নিয়ে বিক্রয় করতে গেলে জামাই টের পেয়ে উপজেলার ভিতরে বাধা দেয়। একপার্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবির্তক শুরু হলে আলম থানায় তাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করে আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ছেলেদের ফাঁসিয়েছে। আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক লিখিতভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।