চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৫ আগস্ট ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জিকে ক্যানেল থেকে এক ব্যক্তির মাথা উদ্ধার

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৫, ২০১৬ ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আলমডাঙ্গা অফিস: গতকাল আলমডাঙ্গা জিকে ক্যানেলে পানিতে ভাসমান অবস্থায় একটি মাথা পাওয়া যায়। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে গতকাল দুপুরের দিকে মাঠের লোকজন জিকে ক্যানালে মাছ মারতে গেলে একটি মাথা দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক তারা থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার এস আই অচিন্ত কুমার জামজামি ফাড়ির ইনচার্জ এস আই ফারুক ইবি থানার ওসি তদন্ত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়। এসময় স্থানীয় ব্যাক্তিদের জাল নিয়ে পানি থেকে মাথা তুলে আনা হয়। এস আই অচিন্ত এই প্রতিবেদককে জানান মাথা উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানায় রাখা হয়েছে। আজ ময়না তদন্তের জন্যে চুয়াডাঙ্গা মর্গে পাঠানো হবে। আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশের ধারণা এই মাথা ইবি থানাধীন বলরামপুর গ্রামের দারুল ইসলাম ডোবনের ছেলে তৌফিকুল ইসলামের। উল্লেখ্য গত ৩১ আগষ্ট আলমডাঙ্গা জামজামি রোডে যমুনার মাঠের পাশে মস্তক বিহীন এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। সে সময় লাশের মস্তক খুজে পাওয়া যায় নি। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ  আকরাম হোসেন জানান, উদ্ধার করা কঙ্কালের পরিচয় মিলেছে। সে পাশ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার বলরামপুর গ্রামের মরহুম দারুল ইসলাম ডোবনের ছেলে তৌফিকুল ইসলাম (৩০)। তৌফিক চাষাবাদের পাশাপাশি কলা ব্যবসা করতো। তাকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে কোন স্থানে হত্যা করে লাশ জিকে ক্যানেলের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এদিন বেলা ১১টার দিকে ক্যানেলে মাছ ধরতে গিয়ে এক ব্যক্তি পানিতে কঙ্কাল ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজনকে জানালে তারা পুলিশকে খবর দেয়। এরপর কঙ্কালটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। নিহত তৌফিকের মামা ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার ফলসী গ্রামের মরহুম আনসার উদ্দিনের ছেলে আহসানুজ্জামান (৪০) জানান, তিনি কঙ্কালের হাড়ের সঙ্গে জড়ানো সাদাকালো চেক গেঞ্জী ও পরোনের চেক লুঙ্গী দেখে লাশটি তার ভাগ্নের বলে সনাক্ত করে। তিনি আরো জানান, তার ভাগ্নে তৌফিক ১৯ জুলাই’২০১৬ দিনের কোন এক সময় নিখোঁজ হয়। তাকে অনেক খোঁজ করে না পেয়ে ২২ জুলাই’২০১৬ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় সাধারণ ডাইরি করা হয়। ডাইরিতে বলরামপুর গ্রামের মহরজানের স্ত্রী ববিতা (২৮) এর পরিবারের কাছে প্রায় দেড় লাখ টাকা ধার দেওয়ার কারনে তাদের বিরুদ্ধে তৌফিকের নিখোঁজ হওয়ার সংপৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ডাইরি করার পর তৌফিকের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে ববিতা ও তার স্বামী মহরজানকে স্থানীয় লোকজন আটক করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশের হাতে তুলে দিলেও কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দেয়। এ সময় পুলিশ তাদের সহযোগীতা করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। নিহত তৌফিকের ফুপাতো ভাই আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের শিশিরদাঁড়ী গ্রামের হাসিবুলের ছেলে শাহিন (২৫) আলমডাঙ্গা থানায় এ প্রতিনিধিকে জানান, তার ভায়ের সঙ্গে ববিতার ভাল সম্পর্ক ছিলো। সে কারনে তাদের পরিবারের সঙ্গে টাকা লেনদেনের ছিলো। সে কারনেই তাকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ  আকরাম হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত মাথা ময়না তদন্তের জন্য আজ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।