চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ৮ নভেম্বর ২০১৬

আলমডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরি দীর্ঘদিন বন্ধ কমিটি থাকলেও পাঠক নেই : ভুগছে গ্রন্থগারিক সংকটে

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ৮, ২০১৬ ২:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি: আলমডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহি একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরির কমিটি আছে, সদস্য আছে, কিন্তু নিয়মিত পাঠক নেই। গ্রন্থাগারিক সংকটে লাইব্রেরি বন্ধ থাকায় পাঠকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। লাইব্রেরির নিয়মিত সদস্যরা বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। সমাজে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। আলমডাঙ্গা উপজেলার একমাত্র লাইব্রেরি হচ্ছে আলমডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরি। উলে¬খযোগ্য বইয়ের সম্ভারে সমৃদ্ধ এ লাইব্রেরি। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এ লাইব্রেরির দরজা পাঠকদের জন্য বন্ধ। মাঝে-মধ্যে খোলা দেখা গেলেও সাধারণত বছরের পর বছরব্যাপী বন্ধ থাকে লাইব্রেরিটি। ফলে পাবলিক লাইব্রেরির নিয়মিত সদস্য বা পাঠকেরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। তারা এ সমৃদ্ধ লাইব্রেরির বই পড়ার সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত। এমনিতেই আমাদের সমাজে বই পড়ার প্রচলন সাংঘাতিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সত্যিকার অর্থে জ্ঞানার্জন কিংবা সাহিত্য-রস আহরণের জন্য এখন আর তেমন কেউ বই পড়ে না বললেই চলে। বন্ধ এ সময়েও কেউ কেউ প্রকৃত জ্ঞানার্জন কিংবা সাহিত্যচর্চার তাগিদে লাইব্রেরিতে যাওয়া আসা করেন। আশার কথা হলো এদের সংখ্যা নেহায়েত কম না। প্রকৃত জ্ঞান ও সাহিত্য পিপাসু মানসিকতা সৃষ্টিতে সকল সময়ে লাইব্রেরি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। জ্ঞানের ক্ষুধা মেটানোর একমাত্র স্থান হলো লাইব্রেরি। সেকারণে লাইব্রেরিকে সকল জ্ঞানের মিথ বলা হয়ে থাকে। বেশ কয়েক বছর ধরে আলমডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোপূর্বে একাধিকবার পত্র পত্রিকায় লেখালেখিও হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে লাইব্রেরির দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে না। লাইব্রেরি নিয়মিত পাঠকরা বই পড়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার ফলে দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা পাঠাভ্যাস নষ্ট হচ্ছে। ফলে তাদের অসামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আশংকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অনেক সচেতন পাঠক বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। কিন্তু কাদের বা কোন গোষ্ঠির স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে এ জ্ঞানগৃহের দরজা বন্ধ ? পাবলিক লাইব্রেরিটি উপজেলা চত্ত্বরে অবস্থিত। প্রতিদিন বন্ধ এ লাইব্রেরির সামনে দিয়ে অনেক জন প্রতিনিধি ও নেতাদের নিত্য আসা- যাওয়া। প্রায়ই উপজেলার বিভিন্ন অফিসারসহ একাধিক উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি এ বন্ধ লাইব্রেরির সামনে দিয়ে চলাচল করেন। শিক্ষিত ও উপযুক্ত নাগরিক গড়ে তোলার দায়িত্ব তাদের উপরই ন্যাস্ত। অথচ কোন বিবেচনা প্রসুত এ জ্ঞানগৃহের দরজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত? বই পড়তে আগ্রহী প্রজন্মের জন্য কি কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে পাবলিক লাইব্রেরি ? পাঠপ্রিয় প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব পালনের কথা বিবেচনা করে বন্ধ পাবলিক লাইব্রেরিটি খোলার ব্যাপারে কেউ কি এগিয়ে আসবে না? বর্তমান সরকার প্রত্যেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ দিয়েছেন। প্রত্যেকটি কলেজে লাইব্রেরি আছে, বই আছে কিন্তু পাঠক নেই। কেন পাঠক নেই এর উত্তর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক তাপস রশীদ বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কিশোর-যুবকদের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে হলে তাদেরকে লাইব্রেরিমুখী করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝেও পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এজন্য আলমডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরির কার্যক্রম জরুরীভাবে চালু হওয়ার প্রয়োজন। শুদ্ধ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র’র সভাপতি আতিকুর রহমান ফরায়েজী বলেন, আমরা যারা সাহিত্য চর্চার সাথে জড়িত, তাদের নিয়মিত পড়াশোনার জন্য আলমডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরির মত এমন ঋদ্ধ লাইব্রেরি অনেক উপকারে আসতে পারতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের যে দীর্ঘদিন ধরে লাইব্রেরিটা বন্ধ রাখা হয়েছে। সহকারি অধ্যাপক আলম হোসেন বলেন, আমার জানা মতে পাবলিক লাইব্রেরিটা বেশ সমৃদ্ধ। লাইব্রেরি ওয়ার্কের সুযোগ থাকলে তো আমরা কলেজ শিক্ষকরা প্রতিদিন বিকেল বা সন্ধ্যায় গিয়ে পড়াশোনা করতে পারতাম। রোডে আড্ডা না মেরে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে সময়টা ভালভাবে কাটাতাম। তাতে আমাদেরর পেশাগত দক্ষতাও বাড়তো।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।