চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৯ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলমডাঙ্গায় রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর সময় গৃহবধূর মৃত্যু

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ৯, ২০২১ ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গায় রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর সময় নাক দিয়ে ফেনা বের হয়ে মিম খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মিম খাতুনকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মাত্র ১৯ বছর বয়সে হঠাত হওয়া এই মৃত্যুকে আনন্যাচারাল ডেত্থ বলছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। নিহত মিম খাতুন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের ভোলারদাড়ি গ্রামের রমজান আলীর স্ত্রী ও একই ইউনিয়নের বলিয়ারপুর গ্রামের ডাবলু হোসেনের মেয়ে।
জানা যায়, দুই বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে একই ইউনিয়নের বলিয়ারপুর গ্রামের ডাবলু হোসেনের মেয়ে মিম খাতুনের সঙ্গে ভোলারদাড়ি গ্রামের পুরাতনপাড়ার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে রমজান আলীর বিবাহ হয়। সাংসারিক জীবননে তাদের একটি এক বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। শিশু ছেলেটি নাম মারুফ। মিমের স্বামী রমজান রাজমিস্ত্রির রাজমিস্ত্রীর কাজ করে।
নিহত মিমের শ্বাশুড়ি হাজেরা খাতুন বলেন, ‘এশার আজানের পর আমরা একসাথে বসে খাবার খেয়েছি। আমার ছেলে রাতের খাওয়া শেষে পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানে যায়, আর মিম খেয়ে উঠেছে ছেলেকে নিয়ে খাটের ওপর খেলা করছিল। আমি তখনও খাচ্ছিলাম, এমন সময় হঠাৎ মিমের গোঙ্গানীর শব্দ শুনে ঘরে যেয়ে দেখি মিমের নাক দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। তখন আমি রমজানকে ডাক দিই। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পাশের গ্রামে মিমের বাপ-মাকেও খবর দেওয়া হয়। ওরা আসলেই আমরা মিমকে হাসপাতালে নিয়ে আসি, কিন্তু ডাক্তার জানায় মারা গিয়েছে।’
স্বামী রমজান আলী জানান, ‘তার সঙ্গে স্ত্রী মিমের কখনয় ঝগড়া হয়না। শিশু সন্তানকে নিয়ে তারা শুখেই ছিল। প্রতিদিনের মত গতকাল রাতেও এক সঙ্গে খাবার খেয়ে পাড়ার মোড়ে চায়ের দোকানের দিকে যান তিনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মা জানায় মিম অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি বাড়ি ফিরে দেখি মিমের নাক দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। তখন আমার শ্বশুরকে খবর দিই। কিছুক্ষণ পড়েই শ্বশুর আসলে মিমকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
মিমের মা রেশমা বেগম বলেন, ‘আমরা মেয়েকে যতদূর পেরেছি বিয়ের সময় দিয়েছি। মেরে শ্বশুর বাড়ি থেকে কখনই আর কিছুই চায়নি। জামায় মেয়েকে কখনও মারধরও করেনি। আমার মেয়ের মাথায় রোগ ছিল। ব্রেন স্টোক করে মারা গেয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেয়েটিকে তার পরিবারের সদস্যরা জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। আমরা জরুরি বিভাগে মেয়েটিকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালের নেওয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে। মেয়েটির পিতা-মাতাসহ শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা জানায়, হঠাৎ করেই মেয়েটির নাক দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। মাত্র ১৯ বছর বয়সের হঠাৎ মৃত্যু হওয়াটা স্বাভাবিক নয়। এটি আনন্যাচারাল ডেতথ। তবে ময়নাতদন্ত হলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে না।’
এদিকে, নিহত মিমের বাবার বাড়ি ও শ্বশুড় বাড়ি দুই পরিবারের সদস্যদের কারও এঘটনায় কোন অভিযোগ না থাকায় রাতেই লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।