আলমডাঙ্গায় যাত্রাবিরতি করল সীমান্ত এক্সপ্রেস

18

আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে যাত্রা বিরতি শুরু করল সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন। গতকাল বুধবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি আলমডাঙ্গা স্টেশনে এসে পৌঁছায়। এসময় ট্রেনের গার্ড, ড্রাইভার, এটেডেণ্টদের হাতে ফুলের তোড়া, মিষ্টি ও কিছু উপহার তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাদির গনু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার ১ নম্বর প্যানেল মেয়র খন্দকার মজিবুল হক, ২ নম্বর প্যানেল মেয়র জহুরুল হক স্বপন, সহকারী স্টেশন মাস্টার নাজমুল হোসেন, সহকারী স্টেশন মাস্টার তৌহিদুল ইসলাম, বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন, সম্পাদক কামাল হোসেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খ. হামিদুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা মুক্তমনা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মহসিনুজ্জমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বসিরুল আলম, ৩ নম্বর প্যানেল মেয়র মনোয়ারা খাতুন, কাউন্সিলর ডালিম হোসেন, এস এম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, জেলা মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক শাহাবুল হক, বণিক সমিতির ক্যাশিয়ার ও মুদি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক আলাউদ্দিন, কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, বাপ্পিসহ পৌরসভার কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।
উল্লেখ্য, আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের অপারেটাল কার্যক্রম বন্ধ হলে আলমডাঙ্গাবাসীর ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পুনরায় অপারেটাল কার্যক্রম চালুসহ অস্থায়ী ভিত্তিতে কয়েকজন লোকবল দিয়ে স্টেশনের কাজ চালু হয়। পরে সীমান্ত এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেস স্টপেজের দাবিতে আন্দোলন করতে থাকে। একপর্যায়ে গতকাল ৯ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এক্সপ্রেস আলমডাঙ্গায় যাত্রাবিরতি দেয়।
জানা যায়, ভারতের হাওড়া থেকে কুষ্টিয়ার জগতি অবধি উপমহাদেশের প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয় ১৮৬২ সালে। আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন দেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম রেলস্টেশনগুলির একটা। তাছাড়া উপমহাদেশের একমাত্র দোতলা স্টেশন। আলমডাঙ্গা উপজেলাসহ আশপাশের মিরপুর, কুষ্টিয়ার ইবি থানা, গাংনী উপজেলা ও হরিণাকুন্ডু উপজেলার মানুষ ঐতিহ্যবাহী আলমডাঙ্গা স্টেশন ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।
জনপ্রিয় আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেসটির আলমডাঙ্গায় যাত্রাবিরতির দাবি দীর্ঘদিনের। আলমডাঙ্গার মানুষ দীর্ঘ বছর ধরে এ দাবিতে সোচ্চার ছিল। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রাদান করা হয়েছে এ দাবির সমর্থনে। এ দাবি বাস্তবায়নে একাধিবার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে গত ৭ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী অফিসের চিফ অপারেটিং সুপারেন্টেন্ডেন্ট (পশ্চিম) আলমডাঙ্গা স্টেশনে আন্তনগর সীমান্ত এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির ঘোষণা সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। রাজশাহী রেলওয়ের (পি) (পশ্চিম)’র সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারেন্টেন্ডেন্ট আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিতে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৯ জুন থেকে খুলনা-চিলাহাটি-খুলনা রুটে চলাচলকারী আন্তনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস আলমডাঙ্গায় যাত্রাবিরতি প্রদান করা হল। খুলনার উদ্দেশ্যে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি আলমডাঙ্গায় যাত্রাবিরতি করবে ১টা ৬ মিনিটে। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস আলমডাঙ্গা স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে রাত ১২টা ১১ মিনিটে। চিলাহাটি থেকে খুলনা রুটে নতুন করে চলাচলের জন্য লক্কড়-ঝক্কড় সীমান্ত এক্সপ্রেসটির কোচগুলি পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ট্রেনের সাধারণ কোচগুলি পরিবর্তন করে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা সাদা রঙের কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। ১২টি কোচ নিয়ে ওই ট্রেন বহর চলবে এ রুটে। ট্রেন দুটিতে রাত্রীকালীন আসন সংখ্যা ৮৬৫ ও দিনে ৮৯০টি। তার মধ্যে রাতে তাপানুকুল ২৩টি শয়নাসন (বাথ) ও ৮০টি চেয়ার রয়েছে।