চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৮ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলমডাঙ্গায় ভোটের পোস্টার লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট যুবক

ঝলসে গেছে শরীরের ৪০ শতাংশ, রেফার্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ১৮, ২০২১ ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আলমডাঙ্গায় ভোটের পোস্টার লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লাল চাঁন (২৫) নামের এক যুবক গুরুতর ঝলসে গেছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপলোর ভাঙবাড়িয়া ইউনিয়নের গৌরীহ্রদ গ্রমের মহেশপুর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তাঁর শরীরের ৪০ শতাংশ গুরুতর ঝলসে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। লাল চাঁন আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের গৌরীহ্রদ গ্রমের মৃত মহসীন আলীর ছেলে। সে পেশায় একজন দিনমজুরর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল থেকে লাল চাঁন আসন্ন ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সোহানুর রহমানের নির্বাচনি পোস্টার লাগানোর কাজ করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে পোস্টার লাগানোর এক পর্যায়ে তিনি গৌরীহ্রদ গ্রমের মহেশপুর মোড়ের সিরাজুল ইসলামের দিতলবিশিষ্ট বাড়ির ছাদের ওপরে উঠে লাল চাঁন। এসময় ছাদের পাশদিয়ে থাকা উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক তাঁরের সংস্পর্শে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তারের সঙ্গে আটকে যান। তাঁরের সঙ্গে আটকে থাকতে দেখতে স্থানীয় ব্যক্তিরা দ্রুত বিদ্যুৎ অফিসে জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হলে স্থানীয়রা তাঁকে নিচে নামিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক লাল চাঁনকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করেন। লাল চাঁচের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শও দেন। বিকেলেই পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল লেজের উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতাল ত্যাগ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা উপজেলার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ‘লাল চাঁন পেশায় একজন দিনমজুর। আজ (গতকাল) সকাল থেকে সে আমার নির্বাচনি প্রাচার প্রচারণার পোস্টার লাগানোর কাজ করছিল। এরই মধ্যে সে কেন দুই তলার ছাদে উঠেছিল তা জানি না। তবে তাঁর বিদ্যুৎস্পৃষ্টের খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গেছিলাম। তাঁর সার্বিক খোজখবর নিতে সদর হাপসাতালেও তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁর চিকিৎসার জন্য আমার পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহযোগীতাও করছি।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় ব্যক্তিরা লাঁল চান নামের এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে লাল চাঁনের বুক, পিঠ, হাত, পাসহ শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ ঝলসে গেছে। আমরা তাঁকে জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদাান করেছি। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাপসাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।’

এদিকে, লাল চাঁনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানে হয়, গতকাল রাত নয়টার দিকে লাল চাঁনকে নিয়ে তার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাপসাতালে পৌঁছোয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভর্তি করেছে এবং সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।