আলমডাঙ্গায় বাঁশবাড়িয়ার দুই যুবক অপহরণের ৪ মাস পর সন্ধান লাভ

240

আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গা বাশবাড়িয়ার জিয়া এবং রাসেলকে অপহরণের ৪ মাস পর গতকাল গভীররাতে কে-বা কারা তাদের বাড়ির সন্নিকটে ফেলে রেখে যায়। তুলে নিয়ে যায় একদল সশস্ত্র বাহিনী। পরে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। গত ৪মাস পূর্বে একদল সশস্ত্র লোকেরা জিয়া ও রাসেলকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে র‌্যাব পরিচয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেই থেকে অপহৃত এই দুইজনকে খুজে ফিরছিলো তাদের পরিবার। উক্ত গ্রামের মসলেমের স্ত্রীর দাবি ২ বছর পূর্বে তার হারিয়ে যাওয়া সন্তান সাব্বিরকে খুন ও গুমের অভিযোগে এই ২ জনকে র‌্যাব আটক করে। সে আরো দাবি করে আসছিলো তার ছেলেকে ফিরিয়ে দিলে সে ওই ২ জনকে ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু কাকতালিয়ভাবে হারিয়ে যাওয়া সাব্বির হঠাৎ করেই বাড়ি ফিরে আসে। সে গ্রামবাসিকে জানায়, রাগ করে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করত। অন্যদিকে সাব্বির ফিরে আসার ২ দিন পরই রাসেল ও জিয়াকে কে-বা কারা গভীররাতে ফিরিয়ে দিয়ে যায়। এ ব্যাপারে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাশবাড়িয়া গ্রামের মসলেমের ছোট ছেলে সাব্বির বাবা মা এর উপর অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা ছেলেকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে এমন অভিযোগে একই গ্রামের জিয়া ও রাসেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এর কিছু দিনের মাথায় বাশবাড়িয়া গ্রাম থেকে র‌্যাব পরিচয়ে জিয়া এবং রাসেলকে তুলে নিয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও জিয়া এবং রাসেলেকে না পাওয়া গেলে সাব্বির এর পিতা মসলেম গ্রামে প্রচার করে বেড়ায় যদি তার ছেলেকে ফিরিয়ে দেয় তাহলে তারা জিয়া এবং রাসেলকে ছেড়ে দেবে। গতকাল সোমবার বেলা ৩ টার দিকে সাব্বিরকে গ্রামের দিকে হেটে আসতে দেখা যায়। কিন্তু সে বাড়িতে পৌছানোর পর তার বাবা মা তাকে ঘরে আটকে রাখে এবং প্রতিবেশিদের দেখতেও দেয় না। এদিকে গ্রামবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়েছে মসলেমের পরিবার। গ্রামবাসী এবং অপহৃতদের পরিবার এর দাবি মসলেম এবং তার স্ত্রী মিলে এই নাটক করে ওদের আটকে রেখে মুক্তিপন আদায়ের চেষ্টা করেছে। তাই মসলেম ও তার স্ত্রীকে যথপোযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত ৯ টার দিকে র‌্যাবের একটি দল সাব্বিরের বাড়ি থেকে সাব্বির ও তার পিতাকে তুলে নিয়ে গেছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাদের আর কোন খবর পাওয়া যায়নি।