আলমডাঙ্গায় দুই, কালীগঞ্জে তিনজনসহ সারা দেশে ২৯ জনের মৃত্যু

61

ছুটির দিনে বেপরোয়া যানবাহনের দখলে সড়ক-মহাসড়ক, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই, বাড়ছে দুর্ঘটনা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ছুটির দিনে সড়ক পথগুলো ছিল বেপরোয়া যানবাহনের দখলে। এসব বাহন চলেছে সীমাহীন গতিতে, এবং কোনো নিয়ম-নীতিরই তোয়াক্কা করেনি। ফলে পথে পথে ঘটেছে দুর্ঘটনা। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে দেশের ১০ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় ভ্যান উল্টে দুজন নিহত হয়েছেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে উভয় বাসের চালকসহ আটজন। বগুড়ায় বাসচাপায় প্রাণ গেছে অটোরিকশায় থাকা চার আরোহীর, একই দিন বগুড়ার দুপচাঁচিয়াতে ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। বরিশালের চরমোনাই মাহফিলে জুমার নামাজে যাওয়ার পথে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুই বন্ধু। শেরপুর পৌর শহরে ট্রাকের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে বাসের চাপায় আবেদুর রহমান সোহাগ (১৮) নামে এক ইজিবাইকচালকের মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জের পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এদিন সন্ধ্যায় চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় পিকআপের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ভূমি অফিসের সামনে পাখিভ্যান (ভটভটি) উল্টে শিপন আলী (৩৫) ও রিপন (২০) নামে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় চালক একরামুল কবীর (২৬) আহত হয়েছেন। সকাল নয়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিপন ও রিপন পার্শ্ববর্তী পাইকপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে এবং চালক একরামুল একই গ্রামের কালু মন্ডলের ছেলে।
আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুর রহমান জানান, পারিবারিক প্রয়োজনে শিপন ও রিপন সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ হাটে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে খাসকররা ভূমি অফিসের সামনে পাখিভ্যানটি উল্টে চালকসহ তিনজন আহত হন। আহতদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুব-এ খোদা শিপন ও রিপনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের পাতবিলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- কালীগঞ্জ উপজেলার ভাটাডাঙ্গা গ্রামের সোহেল (২৭), একই গ্রামের আকরাম হোসেন (৪০) ও কোটচাঁদপুর পৌরসভার দুধসর গ্রামের শিমুল বিশ্বাসের ছেলে সৌভিক বিশ্বাস (২৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন একই দুর্ঘটনায় আহত কালীগঞ্জ বেথুলী গ্রামের দুখিরাম।
জানা যায়, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে সৌভিক বিশ্বাস মোটরসাইকেলযোগে কালীগঞ্জ থেকে কোটচাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে পাতবিলা তেলপাম্পের সামনে পৌঁছালে একটি যাত্রীবাহী বাসকে ওভারটেক করার সময় বাসের পিছন থেকে আসা অপর মোটরসাইকেল আরোহী সোহেল ও আকরাম হোসেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এসময় অপর একটি মোটরসাইকেলযোগে আসা বেথুলী গ্রামের দুখিরাম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই দুই মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা মারে। এসময় ঘটনাস্থলেই সৌভিক বিশ্বাস নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। নিহত শিমুল বিশ^াস কোটচাঁদপুর পৌর এলাকার দুধসর গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বিশ^াসের ছেলে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আকরাম হোসেন ও সোহেলের মৃত্যু হয়।
কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মামুনুর রশিদ জানান, কালীগঞ্জ পাতবিলা তেলপাম্পের সামনে তিনটি মোটরসাইকেলের একত্রে সংঘর্ষে ৩ জন গুরুতর জখম ও ১ জন নিহত হন। আহতদের মধ্যে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।