আলমডাঙ্গায় জমি বিক্রির নামে প্রতারণা!

311

ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গার বেলগাছীর সারজুল ইসলাম ফকিরের বিরুদ্ধে চারজনের নিকট থেকে জমি বিক্রয়ের নামে টাকা গ্রহণ করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া একই জমি দুই ব্যক্তির কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করায় ফুঁসে উঠেছে প্রতারণার শিকার হওয়া ওই ব্যক্তিরা। জমি বিক্রয়ের নামে প্রতারণার ঘটনায় পাঁচ ব্যক্তি আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছীর মৃত ওমর আলীর ছেলে সারজুল ওরফে ফকির দীর্ঘদিন যাবৎ জমি বিক্রয়ের নামে সাধারণ লোকজনের নিকট থেকে টাকা নেন। কিন্তু তাঁদের জমি রেজিস্ট্রি না করে বিভিন্নভাবে ঘুরাতে থাকেন। ১৫ বছর পূর্বে বেলগাছী গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে মালেকের নিকট ৪ কাঠা জমি বিক্রয়ের নামে ১০ হাজার টাকা, মৃত ঝুমুর আলীর ছেলে অহিদুলের নিকট থেকে ৮ কাঠা জমি বিক্রয়ের জন্য ২০ হাজার টাকা ও মৃত আজগার আলীর ছেলে খালেকের কাছ থেকে ৩ কাঠা জমির জন্য ১০ হাজার টাকা নেন সারজুল ফকির। কিন্তু এক যুগ পার হলেও সারজুল ফকির তাঁদের জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে তালবাহানা শুরু করেছে। তবে ওই তিন ব্যক্তি এক যুগ ধরে জমির ক্রয়সূত্রে সারজুলের জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। এছাড়াও, বেলগাছী গ্রামের মাঠের জমি ২০১৩ সালে ডাউকি ইউনিয়নের পোয়ামারী গ্রামের রমজান মোল্লার ছেলে মণ্টু মোল্লার নিকট সারজুল বিক্রি করে দেন। ওই একই জমির জাল দলিল করে ২০১৭ সালে বেলগাছী গ্রামের গফুর মণ্ডলের ছেলে লাল্টুর নিকট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে পুনরায় বিক্রি করেন সারজুল ফকির।
প্রতারণার শিকার অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ফকির আমার সম্পর্কে চাচাত ভাই। ১৫ বছর পূর্বে ৮ কাঠা জমি বিক্রয়ের জন্য আমার নিকট আসে। আমি তখনকার সময় হালের গরু বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করি। কিন্তু সারজুল আজ না কাল জমি রেজিস্ট্রি করে দিবে বলে দীর্ঘ এক যুগ ধরে ঘুরাচ্ছে। এই জমি সে আমার কাছে বিক্রয় করেছে এলাকার সবাই তা জানে।’
প্রতারণার শিকার লাল্টু জানান, ‘আমি গত ২০১৭ সালে সারজুলের নিকট থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে জমি ক্রয় করি। সারজুল ইতিপূর্বে ওই জমি অন্যজনের নিকট বিক্রি করেছে। আবারও ওই জমির জাল দলিল করে আমার নিকট বিক্রি করেছে। সে শুধু আমার সঙ্গে প্রতারণা করেনি, এলাকার অনেক সাধারণ লোকজনের সঙ্গে জমি বিক্রির নামে প্রতারণা করে আসছে।’
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত সারজুল ওরফে ফকিরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কারো নিকট জমি বিক্রি করিনি। আমার জমিগুলো তাদের নিকট বন্ধক রাখা হয়েছে।’
এই ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আ. মালেক বলেন, সারজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে।