আলমডাঙ্গায় চার মাসে ১১টি গরু-মহিষ চুরি!

31

ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বন্ডবিলে চার মাস ধরে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। গত শনিবার গভীর রাতে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বন্ডবিল গ্রামের লিটন শেখের গোয়াল থেকে এক জোড়া মহিষ চুরি হয়েছে। এ নিয়ে গত চার মাসে বন্ডবিল গ্রামে চারটি মহিষ ও সাতটি গরু চুরি করেছে চোর চক্র। একের পর এক চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে গ্রামের মানুষ।
মহিশ মালিক লিটন আলী বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে আমি এক গোড়া মহিষ কিনেছিলাম তিন লাখ টাকা দিয়ে। চাষের কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি আমার মহিষ জোড়া দিয়ে কৃষি মালামাল পরিবহন কাজেও ব্যবহার করতাম। মহিষ দিয়ে আয় করে আমি আমার সংসার চালাতাম। আমার মহিষ জোড়া আমি রাত সাতটার দিকে গোয়ালঘরে দড়ি ও শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করি। রাত ১১টার দিকে ঘুম থেকে উঠে মহিষের খাবার দিই। খাবার দিয়ে ঘুমাতে চলে যায়। রাত তিনটার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য আমি ঘরের বাইরে আসি, গোয়াল ঘরে মহিষের কোনো নড়াচড়া না দেখে গোয়াল ঘরে বাতি জ্বালিয়ে দেখি আমার মহিষ জোড়া নেই। মহিষের শিকল ও তালা কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি বাড়ির চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। এ সময় আমার প্রতিবেশীরা টের পেয়ে সবাই মিলে আশপাশের মাঠে অনেক খোঁজাখুঁজির করেও মহিষ জোড়া না পেয়ে চুরি হয়ে গেছে বুঝতে পারি।’
গ্রামবাসী বলেন, ‘একের পর এক গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটছে, এসব চুরির সাথে কে বা কারা জড়িত রয়েছে, তা বুঝতে পারছি না। পুলিশ ও এ বিষয়ে কিছুই করছে না। আমরা এখন জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জানি না লিটনের মতো আবার কবে কে কার সংসার চালানোর সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়বে।’
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির জানান, গত রাতের মহিষ চুরির ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ করছে।