আলমডাঙ্গায় করোনাক্রান্ত রোগীর আত্মহত্যা

58

পরিবারের সদস্যদের অবহেলা ও মানুষের কটূক্তি সহ্য করতে না পেরে
আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়গড়ি গ্রামে আব্দুর রাজ্জাক (৫০) নামে করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তি গলাই দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রাজ্জাক আলমডাঙ্গা উপে জেহালা ইউনিয়নের গড়গড়ি গ্রামের হঠাৎপাড়ার শাহাজুদ্দিনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গরুর ব্যবসা করতেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রাজ্জাক বেশ কিছুদিন যাবত জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছিলেন। গত ১৬ জুন নমুনায় (র‌্যাপিড টেস্টে) ওইদিনই তাঁর করোনা পজিটিভ হয়। এরপর তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর আব্দুর রাজ্জাক ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন। বাড়িতে আসার পর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁদের বাড়ি লকডাউন করে দেন। এতে গ্রামের অন্যান্য মানুষের কটূক্তি ও পরিবারের সদস্যদের অবহেলা সহ্য করতে না পেরে গতকাল রোববার সকালে কোনো এক সময় নিজ ঘরে গলাই দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সকালে বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন পরিবারের সদস্যরা।
আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী ময়না খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামীর করোনা শনাক্তের পর হাসপাতালে ছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বাড়িতে আসার পর আমরা সবাই তার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। হাসপাতালে থাকলে আমার স্বামীটা আত্মহত্যা করত না।’
জেহালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হক রোকন বলেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর বাড়িটি উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে এলাকার লোকজন বিভিন্ন মন্তব্য করতেন। পরিবারের সদস্যদের অবহেলা ও সামাজিক হেয়প্রতিপন্ন হওয়ায় মান-অভিমানে আব্দুর রাজ্জাক সকালে আত্মহত্যা করেছেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ১৬ তারিখে নমুনা দিলে ওই দিনই তাঁর করোনা পজিটিভ হয়। তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন। সকালে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জেনেছি।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, গড়গড়ি গ্রামে একজন করোনা আক্রান্ত রোগী আত্মহত্যা করেছে বলে জেনেছি। তিনি জ্বর, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে ভুগছিলেন। তাই আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।