চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৬ মে ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলমডাঙ্গায় ইউএনও পরিচয়ে চাঁদা দাবি!

সমীকরণ প্রতিবেদন
মে ২৬, ২০২১ ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নাম ভাঙিয়ে দুটি বেকারি মালিকের কাছে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হবে না শর্তে টাকা চাওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ইউএনও পরিচয়ে ওই দুই বেকারি মালিকের কাছে টাকা চাওয়া হয়। এর আগে ইউএনও পরিচয়ে দুই ওয়ার্ডের সাবেক দুই কাউন্সিলরের কাছ থেকে বেকারি মালিকদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রতারকেরা।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে প্রথমে আলমডাঙ্গা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দিনেশ কুমারের কাছে ইউএনও পরিচয়দানকারী তাঁর ওয়ার্ডে মোট কয়টা বেকারি রয়েছে সেবিষয়ে জানতে চান। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও সাবেক কাউন্সিলরের কাছ থেকে বেকারি মালিকের মোবাইল নম্বর জানতে চান প্রতারক। এসময় দিনেশ কুমার মডার্ন বেকারি মালিক মিলনের নম্বর দিয়ে দেন এবং তিনি নিজেও ইউএনও’র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়টি মিলনকে অবহিত করেন।
এর কিছুক্ষণ পরই ইউএনও পরিচায়দানকারী ০১৬৬০-১৫১৩১১ নম্বর থেকে মিলনকে কল করে বলা হয়, আমি আলমডাঙ্গা থানার ইউএনও। ঢাকা থেকে ম্যাসেজ এসেছে, আলমডাঙ্গার সব বেকারিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করতে বলা হয়েছে। আমরা ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করছি। এ সময় ইউএনও পরিচায়দানিকারী ওই প্রতারক বেকারি মালিক মিলনকে একটু সুযোগ দেওয়ার কথা বলে জানান, আপনি চাইলে কিছু কম টাকা দিয়ে আপনার নাম কাটিয়ে নিতে পারেন এবং তার নম্বরে ৮ হাজার ২ শ টাকা বিকাশ করে দিতে বলেন। এ সময় বেকারি মালিক মিলন পরদিন সকালের দিকে অফিসে গিয়ে টাকা দিয়ে আসার প্রস্তাব দিলে ইউএনও পরিচয়দানকারী ব্যক্তি তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, এসব অফিসে আলোচনা করা যাবে না। এসময় এখনই বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দিতে আদেশ দেন ভুয়া ইউএনও।
এরপর ০১৭৬৫-৪৫৪১৪৮ নম্বর থেকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইলিয়াছ হোসেনের কাছে একই রকমভাবে তাঁর ওয়ার্ডের বেকারি মালিকের নম্বর চান ইউএনও পরিচয়দানকারী ওই প্রতারক। ইলিয়াস হোসেন নম্বর দেন ক্যানেলপাড়ার মনিফুডের মালিক মনিরুজ্জামান মনির। তাঁকেও ভ্রাম্যমাণ আদালতে অতিরিক্ত জরিমানার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তখনই ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলেও হুমকি দেন ইউএনও পরিচয়দানকারী ওই প্রতারক। মনিরুজ্জামান মনি সকাল পর্যন্ত সময় চাইলে ইউএনও পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তি এখনই অভিযান চালানো হবে বলে জানান। হুমকি পেয়ে সন্দেহ হলে দুই বেকারি মালিক মিলন ও মনি থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার হুমকি প্রদানকারী ওই ব্যক্তি ভুয়া ইউএনও।
এ ব্যাপারে সাবেক কাউন্সিলর দিনেশ কুমার বলেন, ‘আমার কাছে আলমডাঙ্গার ইউএনও পরিচয় দিয়ে বেকারি মালিকের নম্বর চান। আমি সরল বিশ^াসে মডার্ন বেকারির মালিক মিলনের নম্বর দিয়েছি।’
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর বলেন, ভুয়া ইউএনওকে পাকড়াও করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে।
এবিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতে পেরে থানার অফিসার ইনচার্জকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।