চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১১ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলমডাঙ্গার অশোক বাবুর গোডাউনে মিলল ১০ টাকা কেজি দরের প্রায় হাজারের অধিক বস্তা চাল

খোলা বাজারে বিক্রির জন্য ট্রাকভর্তি করে নেওয়া হচ্ছিল ফরিদপুরে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সরকার নির্ধারিত ডিলার না হয়েও গুদামভর্তি সরকারি চাল, বেঁধেছে নানা রহস্যের জট

আলমডাঙ্গার অশোক বাবুর ‘অন্নপূর্ণা চাউল ভাণ্ডারে’ মিলল খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগান সম্বলিত গরীব, দুঃখী অসহায় মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজি দরের প্রায় হাজারের অধিক বস্তা চাল। সরকার নির্ধারিত ডিলার না হয়েও গোডাউনে এ চাল কীভাবে এলো, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। গোডাউনের মালিক অশোক সাহা দাবি করেছেন এ চাল তিনি সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। কিন্তু তাঁর এ দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দেখা যায়, আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত অন্নপূর্ণা চাউল ভাণ্ডারের অস্থায়ী গোডাউন থেকে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগান সম্বলিত চালের বস্তা ট্রাকে লোড হচ্ছে। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই চাল থাকার কথা স্থানীয় ফুড গোডাউন অথবা সরকার নির্ধারিত ডিলারের কাছে। কিন্তু অসিম বাবু সরকারি ডিলার না হওয়া সত্ত্বেও তাঁর গোডাউনে এই বস্তাজাত চাল রয়েছে মজুদ। এবং তিনি এসব চালের বস্তা ট্রাক ভর্তি করে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এ বিষয়ে অন্নপূর্ণা চাল ভাণ্ডারের মালিক অশোক সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বস্তা ও চাল আমি সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার হাসিবুল আলমের কাছ থেকে কিনেছি। আমার কাছে তার প্রমাণ রয়েছে।’ এ কথা বলেই তিনি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের নামে ডিও হওয়া ৪৪ মেট্রিক টন চালের ডিও লেটার।

এই চাল তিনি কোথায় বিক্রি করছেন জানতে চাইলে অশোক সাহা বলেন, ‘এ চাল এখন ফরিদপুর জেলার স্থানীয় বাজারে বিক্রিয় জন্য পাঠাচ্ছি।’ তবে এই বস্তা বস্তা চাল মাটিতে ঢেলে স্থানীয় মিলের চাল মিশিয়ে আবারো একই বস্তাজাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে, তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন প্রতিষ্ঠানের মালিক অশোক সাহা। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখলে অশোক সাহাসহ তাঁর লোকজন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর আলম বলেন, সরকারি চাল বিক্রির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এই বাক্য লেখা ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তা সাধারণ দরিদ্র মানুষের মাঝে ১০ টাকা দরে বিক্রির চাল। এ চাল পুলিশ সুপারের নামে ডিও হওয়া অসম্ভব। যদি কেউ এই কথা বলে থাকে, তাহলে তা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। এর বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইনচার্জ (ইউএনও) রনি আলম নুর বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানতে পেরে সাথে সাথেই আলমডাঙ্গা ফুড অফিসারকে অবহিত করেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছি।’

আলমডাঙ্গা উপজেলা ফুড অফিসার আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে খোঁজ নিয়ে জেনেছি অশোক সাহার গোডাউনে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ বাক্য লেখা চালের বস্তা আছে, যা সরকারি চালের বস্তায় লেখা থাকে। কিন্তু এই গোডাউনজাত চাল আমাদের আলমডাঙ্গা উপজেলার চাল নয়। এ চাল সরকারি ফুড গোডাউন বা সরকারি নির্ধারিত ডিলার ছাড়া রাখা বা মজুদ করা বেআইনি।

এবিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।