চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আর কত নিচে নামবে নির্বাচনী ব্যবস্থা

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১ ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাতিসঙ্ঘের সহায়তাকে আমন্ত্রণ জানানো যায়
গণতান্ত্রিক একটি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা কতটা অধঃপাতে যেতে পারে বাংলাদেশ তার একটা ইউনিক উদাহরণ হলো। স্থানীয় সরকারের তৃণমূল সবচেয়ে ক্ষুদ্র ইউনিট ইউনিয়ন কাউন্সিলের একটি অংশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো গতকাল। এই নির্বাচনে জনগণের কোনো উৎসাহ দূরে থাক আগ্রহী প্রার্থীদেরও আর দেখা যাচ্ছে না। কেবল সরকারি দলের প্রার্থীরা যারা চেয়ারম্যান মেম্বার হওয়ার প্রত্যাশা রাখেন তারাই মাঠে রয়েছেন। ভোট বলতে যা বোঝায় তার খুব সামান্যই এখানে চর্চা হয়েছে। জাতীয় সংসদের শূন্য আসনগুলোতে কিছু দিন পরপর একই ধরনের নির্বাচন আমরা প্রত্যক্ষ করি। এতে করে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি যে বাছাই হচ্ছে না এ ব্যাপারে সম্ভবত কারো দ্বিমত থাকছে না। তারপরেও নির্বাচন কমিশন ভোটের নামে একধরনের মশকারা চালিয়ে যাচ্ছে।
খবরে জানা যাচ্ছে, এই দফায় ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে ৩৮টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্য ইউনিয়নগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও সব আওয়ামী লীগের। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের আয়োজন করেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছেন ক্ষমতাসীনরা। দলের অভ্যন্তরে প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক সদস্য মনে করেন তারই চেয়ারম্যান হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে তারা বেপরোয়া। কারণ বর্তমান সময়ে স্থানীয় সরকারের একজন প্রতিনিধি হওয়ার অবারিত সুযোগ দলের সবাই নিতে চান। এর ফলে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার প্রদর্শনী হয়। জনসাধারণের নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার সুযোগ হয় না। শেষ পর্যন্ত যারা বেশি শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন তারাই নির্বাচিত হন। সব মিলিয়ে সরকারের পছন্দের প্রার্থীই জনপ্রতিনিধি হবেন এটাই শেষ কথা। বিরোধী দলের কোনো প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আগ্রহী হন না। একই ধরনের মনোভাব জনসাধারণেরও। তারা জানেন ভোট দেয়ার সুযোগ নেই কিংবা ভোট দেয়ার সুযোগ থাকলেও তাদের পছন্দের কোনো মূল্য নেই। প্রকৃতপক্ষে ১৬০টি ইউনিয়নের মধ্যে সব ক’টির চেয়ারম্যান ও মেম্বার শেষ পর্যস্ত সরকারের পছন্দে যাকে বাছাই করবে সেই নির্বাচিত বিবেচিত হবেন।
জনগণের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি নির্বাচনের জায়গা সংসদ নির্বাচন। জাতীয় সংসদের শূন্য হওয়া আসনগুলোতে নিয়মিত নির্বাচন হচ্ছে। জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে ঠিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচনের মতোই হচ্ছে। সর্বশেষ আমরা দেখতে পাচ্ছি কুমিল্লা-৭ আসনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেখানে সরকারদলীয় প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এর আগে ধারাবাহিকভাবে সংসদ সদস্যরা এভাবেই নির্বাচিত হয়ে চলেছেন। কুমিল্ল-৭ এ ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি আরো দু’জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। খবরে জানা যাচ্ছে, অন্য দু’জন ইতোমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এদের একজন ছিলেন কথিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টির। তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় থাকবে এই শর্তে; যাতে নির্বাচন সত্যিকার অর্থে একটা কিছু হচ্ছে তা বোঝা যায়। জানা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষ থেকে তার সাথে সমঝোতা হয়ে থাকতে পারে। এর আগেও একইভাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। চাপ প্রয়োগ, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে এমনটা ঘটে চলেছে সহযোগী একটি দৈনিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনাগ্রহের প্রধান কারণ নির্বাচন কমিশনের সম্পূর্ণ অকার্যকারিতা। জনসাধারণ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দান সফল করতে কমিশনের কাছে সংবিধান কর্তৃত্ব দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিজের কাছে থাকা ক্ষমতা প্রয়োগ করে না। তারা এ ক্ষেত্রে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগের চেয়ে ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকাকে অধিক পছন্দ করে। ভোট ব্যবস্থার এই নির্মম পরিণতি এক দিনে হয়নি। দীর্ঘ এক দশকে নির্বাচনী ব্যবস্থা এভাবে শেষ হয়েছে। তাই এটিকে কোনো টনিক দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ঠিকও করা যাবে না। সম্প্রতি ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ডিকাব) এক অনুষ্ঠানে জতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সপ্পো জানান ‘বাংলাদেশ চাইলে জাতিসঙ্ঘ নির্বাচনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’ জাতিসঙ্ঘের এই আগ্রহকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজে লাগানো যায়। বাংলদেশ নিজেই সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিবিড়ভাবে কাজ করে আসছে। বিশ্বের অনেক জায়গায় নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সফলতার সাথে সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশ নিজ দেশে ভেঙে পড়া নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পুনঃস্থাপন করার জন্য জাতিসঙ্ঘের সহায়তাকে আমরা আমন্ত্রণ জানাতে পারি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।