চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আরও ১৭ লাশ উদ্ধার : মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৮

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২ ৯:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে নৌকাডুবিতে গতকাল মঙ্গলবার আরো ১৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নৌদুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৮ জনে। তাদের মধ্যে নারী ৩১ জন, শিশু ২০ জন ও পুরুষ ১৭ জন। মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া ১৭টি লাশের মধ্যে ১১ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলো- শৈল বালা (৫১), সনেকা রানী (৫৫), হরি কিশোর (৪৫), শিল্টু বর্মণ (৩২), মহেন চন্দ্র (৩০), ভূমিকা রায় পূজা (১৫), আঁখি রানী (১০), সুমি রানী (৩৮), পলাশ চন্দ্র (১৫), ধৃতি রানী (১০) ও সজিব রায় (১০)। এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২০ জনের বেশি। উদ্ধার অভিযানের তৃতীয় দিনে গতকাল সকাল থেকে অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিসের সাথে স্থানীয় উদ্ধারকারীরা। দুর্ঘটনাস্থলের ভাটি অংশ থেকে একে একে উদ্ধার হতে থাকে লাশ। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয় ১৭টি লাশ। দুর্ঘটনায় নিহত স্বজনদের দাবি ধীরগতিতে উদ্ধারকাজ চলার কারণে এখনো অনেক লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানান, উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের কোনো অবদান নেই। স্থানীয়রাই নিজ উদ্যোগে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। কয়েক জন দল বেঁধে চিরুণী অভিযান চালাচ্ছেন স্থানীয় উদ্ধারকারীরা। তারা অভিযোগ করেছেন সকাল থেকে সারা দিন তারা উদ্ধারকাজ চালালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো ধরনের খাবার ও পানি সরবরাহ করছে না। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাট ও এর আশপাশের এলাকা এবং মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদে খোলা তথ্যকেন্দ্রে লোকজন ভিড় করতে থাকে। স্বজন হারারা বলছেন, এখন আর জীবিত উদ্ধারের সুযোগ নেই। তিন দিন ধরে লাশের জন্য হন্যে হয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। তারা তাদের স্বজনের লাশটি দ্রুত উদ্ধার করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। তথ্যকেন্দ্রের সামনে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে গত দুই দিন ধরে অপেক্ষা করছেন বোদা উপজেলার মাড়েয়া কাউয়াখাল গ্রামের সন্তোষ কুমার। তিনি জানান, ওই দিন নৌকায় তার পুত্রবধূ সুমিত্রা ও নাতি সজিব (৭) ছিল। পুত্রবধূর লাশ পেলেও এখনো নাতির লাশ খুঁজে পাননি তিনি।

বোদা উপজেলার মাড়েয়া ফুটকিবাড়ী এলাকার জয় জানান, রোববার বোদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার জন্য আমরা সাতজন আত্মীয় উঠেছিলাম। শুরুতেই একটি শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সুস্থ হওয়ার পর তাকে বাড়িতে এনেছি। স্থানীয় উদ্ধারকারীরা ৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। ফায়ার সার্ভিস কোনো কাজ করেনি। তারা আমাদের কোনো উপকার করছে না। এখনো একজন শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর কুমার রায় জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন দিনে ৬৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বোদা উপজেলার ৪৫ জন, দেবীগঞ্জ উপজেলার ১৭ জন, আটোয়ারী উপজেলার দুইজন, পঞ্চগড় সদরের একজন এবং ঠাকুরগাঁও সদরের তিনজন। তিনি আরো জানান, আমাদের তালিকা অনুযায়ী এখনো চারজন নিখোঁজ রয়েছে। এ কারণে বুধবারও উদ্ধার অভিযান চলবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।