আরএমওসহ দুই চিকিৎসক লাঞ্ছিত, থানায় মামলা

193
?????????????????????????????????????????????????????????

রোগী না দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতে অস্বীকার করার হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের
প্রতিবদেক, আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গার হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও)সহ এক নারী চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার যাদবপুর গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। পিতার চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থাপত্র নিতে গিয়ে ওই যুবক আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারসহ আরও এক নারী চিকিৎসকের সঙ্গে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গার যাদবপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের পায়ে কাঁটা বিঁধলে তিনি বেশ অসুস্থ্ হয়ে পড়েন। হাঁটতে পারছিলেন না। সে কারণে আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুর রহিম (২৭) গতকাল দুপুরের দিকে তাঁর পিতাকে নিয়ে হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। ওই সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালন করছিলেন ডাক্তার আশরাফুন নাহার লীনা। আব্দুর রহিম ডা. আশরাফুন নাহার লীনার নিকট গিয়ে তাঁর বাবার অসুস্থতার বিবরণ দিয়ে ব্যবস্থাপত্র দিতে বলেন। ডা. আশরাফুন নাহার লীনা রোগী শারীরিক অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে আব্দুর রহিম জানান, তাঁর পিতা অসুস্থ, চলাফেরা করতে পারছেন না। রোগী না দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না ডা. আশরাফুন নাহার লীনা প্রত্যুত্তরে এ কথা বললে তাঁদের মধ্যে শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। এ সময় আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মোর্তজা আরেফিন ছুটে গেলে তাঁর সঙ্গেও আব্দুর রহিমের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রহিম আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারকে লাঞ্ছিত করেন। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ দুজন নারী চিকিৎসকের সঙ্গেও হাতাহাতিতে লিপ্ত হন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফদের সহযোগিতায় আব্দুর রহিমকে আটকে রাখা হয়। তবে সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
অভিযুক্ত আব্দুর রহিমের মা জানান, আব্দুর রহিম শিক্ষিত ছেলে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর ছেলে প্রথমেই কোনো নারীর ওপর হাত তুলতে পারে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। নারী চিকিৎসকই আগে আব্দুর রহিমের ওপর হাত তুলেছেন বলে তিনি দাবি করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও দেখলেই সত্যতা মিলবে বলে জানান। ঘটনা জানতে পেরে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলী ও আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবীর ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মোর্তজা আরেফিন বলেন, তিনি গালিগালাজ শুনে ছুটে গিয়ে দেখেন, আব্দুর রহিম নামের যুবক ডা. আশরাফুন নাহার লীনাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন আর চিৎকার করে বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ করছেন। তিনি ছুটে গিয়ে বাঁধা দিতে গেলে তাঁকেও লাঞ্চিত করেন। একপর্যায়ে যুবকটিকে আটকে রাখলেও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র রোগী না দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতে অস্বীকার করাতে একজন মানুষ কতটা বিশ্রি আচরণ করতে পারে, তা না দেখলে বোঝা দুষ্কর।’ এ ঘটনায় ডাক্তার আশরাফুন নাহার লীনা বাদী হয়ে রাতে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর জানান, আভিযুক্তকে আটক করতে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। খুব শিগগিরই তাঁকে আটক করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।