চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ১৬ জানুয়ারি ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

নাজাত চেয়ে কান্নার রোল, মিথ্যার সব চক্রান্ত নস্যাৎ কামনা
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:
আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হয়েছে। এ ধাপে ইজতেমার আয়োজক ছিল তাবলিগের আ’লমি শূরা (জোবায়েরপন্থী)। আগামী ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের আয়োজনে থাকছেন মাওলানা সা’দপন্থী তাবলিগ অনুসারীরা। গতকাল প্রথম ধাপের আখেরি মুনাজাতকে কেন্দ্র করে শিল্পনগরী টঙ্গী ও আশপাশের এলাকা ধর্মীয় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ, পদস্থ সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকগণ আখেরি মুনাজাতে অংশ নেন। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিট থেকে ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২৩ মিনিট স্থায়ী মুনাজাত চলাকালে ইজতেমার মূল ময়দান ও আশপাশের এলাকায় পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। থেমে থেমে এই নীরবতা ভঙ্গ করে আমিন; ছুম্মা আমিন; আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ইজতেমা ময়দান। পবিত্র কুরআনের বেশ কিছু প্রার্থনামূলক আয়াত হুবহু উচ্চারণের মাধ্যমে ইজতেমার আখেরি মুুনাজাতের সূচনা করেন তাবলিগ জামাতের রাজধানীর কাকরাইল মারকাজ (কেন্দ্রীয়) মসজিদের খতিব শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা কারি জোবায়ের। মুনাজাতের প্রথমাংশে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা হয়। এর পর মুনাজাতে একাধিকবার বাতিলের সব চক্রান্ত নস্যাতের আকুতি জানিয়ে উম্মতে মুহাম্মদির মাগফিরাত, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ, জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভ, নবী-রাসূল-সত্যবাদীদের সাথে হাশর-নশর ও কায়মনোবাক্যে জান্নাত কামনা করা হয়। এ ছাড়া দেশের হেফাজত, মুসলিম জাহানের মজবুতি ঈমান, দ্বীনের মেহনত, সুন্নতি জিন্দিগি, সালাতে খুশুখুজু পয়দা, দ্বীন ইসলামের হেফাজত ও ইজতেমাকে কবুলসহ দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবি, কল্যাণ কামনা এবং যাবতীয় আজাব-গজব, অকল্যাণ থেকে হেফাজত কামনা করা হয়। মুনাজাতের প্রথম প্রায় ১০ মিনিটব্যাপী আরবিতে রাসূল সা:-এর শানে দরুদ ও পবিত্র কুরআন থেকে দোয়ার আয়াত উদ্ধৃত করা হয়। এর পর বাকি প্রায় ১০ মিনিট বাংলা ভাষায় মহান রবের দরবারে নানা ফরিয়াদ তুলে ধরা হয়। আখেরি মুনাজাতে অংশ নিতে শনিবার রাত থেকেই আশপাশের জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বাস, ট্রেন, ট্রাক ও ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ইজতেমাস্থলে আসতে থাকেন। শনিবার রাতে এসব মুসল্লি কনকনে শীত উপেক্ষা করে রেলস্টেশন, হাসপাতাল ও বিভিন্ন বিপণি বিতানের বারান্দায়, নির্মাণাধীন ও পরিত্যক্ত বিভিন্ন ভবনে অবস্থান নেন। রোববার ভোর থেকে নারায়ণগঞ্জ, রাজধানী ঢাকা, আশুলিয়া, সাভার ও গাজীপুরের প্রত্যন্ত এলাকার মুসল্লিরা দলে দলে ইজতেমা অভিমুখে রওনা হন। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-আশুলিয়া সড়ক, টঙ্গী-কালিগঞ্জ-নরসিংদী সড়কে যানজটের পরিবর্তে জনজটে রূপ নেয়। রোবাবার ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরে ভোগড়া চৌরাস্তা, দক্ষিণে কুড়িল বিশ্বরোড, টঙ্গী-আশুলিয়া সড়কের পশ্চিমে ধৌড় মোড় এবং টঙ্গী-কালিগঞ্জ সড়কের পূর্বে করমতলা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে আখেরি মুনাজাতকে কেন্দ্র করে ইজতেমা ময়দান যেন সব পথের মোহনায় পরিণত হয়। মুনাজাত শেষে এসব সড়কে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো জনস্রোত তৈরি হয়।
হেদায়াতি বয়ান: রোববার বাদ ফজর তাবলিগ বা দাওয়াতে মেহনতের ওপর বয়ান করেন মুম্বাইয়ের (ভারত) মাওলানা আবদুর রহমান এবং আখেরি মুনাজাতের আগে একই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বয়ান করেন ভারতের আল্লামা ইব্রাহিম দেওলা। ভাষান্তর করেন কাকরাইল মসজিদের খতিব মাওলানা কারি জোবায়ের। আল্লামা ইব্রাহিম দেওলা বলেন, দ্বীনের মেহনত দ্বারা কী হাসিল করতে চাই তা বুঝতে হলে সাহাবায়ে কেরামের জিন্দিগির দিকে তাকাতে হবে। সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যে দুনিয়ার আগ্রহ ছিল না, তাদের মধ্যে ছিল আখেরাতের প্রতি আগ্রহ। আমাদের মধ্যে আখেরাতের প্রতি বেশি আগ্রহ থাকতে হবে। এমনভাবে মেহনত দেবো যাতে আখেরাতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। দুনিয়া হলো ক্ষণস্থায়ী জিন্দিগি। দুনিয়াতে আল্লাহ মানুষকে মেহনতের শক্তি দিয়েছেন। এই শক্তি কেউ দুনিয়ার কাজে আবার কেউ আখেরাতের কাজে ব্যয় করে। মানুষ যখন আখেরাতে যাবে তখন তার দুনিয়াবি কোনো আমল কাজে আসবে না। আমরা প্রত্যেকে মৃত্যুর লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। যার যখন মৃত্যুর সময় আসছে সে তখন মৃত্যুবরণ করছে। কেউ নির্ধারিত সময়ের এক মুহূর্ত আগে বা পরে মরতে পারবে না। এর আগে মাওলানা আবদুর রহমান বয়ানে বলেন, এমন আমলের হালতে থাকব, যাতে এক মিনিট সময়ও নষ্ট না হয়। যখন মসজিদে অবস্থান করব তখন ইতেকাফের নিয়তে থাকব, মসজিদে কোনো দুনিয়াবি কথা বলব না, বুলন্দ আওয়াজ (উচ্চৈঃস্বরে কথা) করব না। মসজিদে প্রবেশ করেই তাহিয়্যাতুল মসজিদ (দুই রাকাত সালাত) পড়ে নেব। তিনি বলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় দুশমন তার নফস। তাই নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আল্লাহকে রাজি-খুশি করার লক্ষ্যে আমল, আখলাক, মোয়ামেলাত, দ্বীনের মেহনত হাসিল করতে হবে। দাওয়াতের সুযোগ পেলে দাওয়াত দেবো, ইবাদতের সুযোগ পেলে ইবাদত করব, খেদমতের সুযোগ পেলে খেদমত করব।
আটজনের মৃত্যু: গতকাল রোববার ভোরে আনিসুর রহমান (৭১) নামে ইজতেমায় তাবলিগ জামাতের এক দায়িত্বশীলের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আনিসুর রহমানের বাড়ি রাজধানীর বংশালে। তিনি ইজতেমা ময়দানের ১৮ ও ১৯ নম্বর বহুতল টয়লেট ভবনের জিম্মাদারির দায়িত্বে ছিলেন। রোববার ভোরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ইজতেমা ময়দানের পূর্ব পাশে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া গতকাল শনিবার নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার মাছিমপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান হবি (৭০), চট্টগ্রামের রাউজানের আব্দুর রাজ্জাক (৭০)-সহ এ পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমায় মোট সাতজন মারা যান। এর আগে গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার মধ্যে কামার গ্রামের আক্কাস আলী সিকদার (৫০), খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার মলমলিয়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন খান (৭০), ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাজী মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ হবি (৬৮), গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর মেট্রো সদর থানার ভুরুলিয়ার আবু তৈয়ব ওরফে আবু তালেব (৯০) ও সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানার হবিপুরের হেমুবটে পাড়ার মো: নূরুল হক (৬৩) ইন্তেকাল করেন।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।