চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমাদের দ্বিতীয় পৃথিবী! যেন হাত বাড়ালেই বন্ধু!

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৬ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

1472410559

প্রযুক্তি ডেস্ক: এই পৃথিবীতে যেভাবে আমরা ঘর-সংসার করছি, ঠিক তেমনি আরেকটি পৃথিবী পাওয়া গেছে যেখানে মিলতে পারে প্রাণের অস্তিত্ব, সেখানেও সুযোগ তৈরি হতে পারে আমাদের ঘর-সংসার করার। আর এই সুখবরটা এসেছে একেবারে আমাদের ‘পাশের বাড়ির প্রতিবেশির কাছ থেকেই। এই পৃথিবীতে কোনো সমস্যায় পড়লে রাগ করে চলে যেতে পারবো দ্বিতীয় পৃথিবীতে! যেন হাত বাড়ালেই বন্ধু! খবর বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকার। দক্ষিণ আমেরিকায় চিলির লা সিলায় ইউরোপিয়ান সাদার্ন অবজারভেটরির সাড়ে তিন মিটার ব্যাসের টেলিস্কোপের নজরেই প্রথম ধরা পড়েছে আমাদের প্রতিবেশির ঘরের অন্দরে লুকিয়ে থাকা এই ‘গুপ্তধনে’র। বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার’-এর গত ২৫ আগস্ট সংখ্যায় ছাপা হয়েছে সেই আবিষ্কারের খবর। যা নিয়ে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। আমাদের সৌরজগতের সীমানা পার হলেই অন্য একটি সৌরজগতের ‘বাড়ির ত্রিসীমানা’ শুরু হয়ে যায়, তার নাম- ‘আলফা সেনটাওরি’। এই সৌরমণ্ডলের ‘বাড়ির মালিক আবার তিনজন। অর্থাত্ এখানে রয়েছে তিন-তিনটি নক্ষত্র, আমাদের সূর্যের মতো। ‘আলফা সেনটাওরি-এ’, ‘আলফা সেনটাওরি-বি’ আর ‘প্রক্সিমা সেনটাওরি’। তবে এই প্রথম জানা গেল, সেই ‘বাড়ির এক মালিকের এক ঘনিষ্ঠ ‘অনুচর’ও রয়েছে! সেই ‘অনুচর’টি তার একটি গ্রহ। যার নাম- ‘প্রক্সিমা সেনটাওরি-বি’। এই ভিনগ্রহটি অনেকটাই আমাদের বাসযোগ্য গ্রহ পৃথিবীর মতোই। আর সেই ভিনগ্রহটা রয়েছে ওই সৌরমণ্ডলের এমন একটা জায়গায়, যেখানে প্রাণ সৃষ্টির সহায়ক পরিবেশ না থাকলেই অবাক হতে হবে বেশি। সৌরমণ্ডলের এমন মুলুককে বলা হয়, ‘হ্যাবিটেব্?ল জোন’ বা ‘গোল্ডিলক্?স জোন’। সদ্য আবিষ্কৃত ভিনগ্রহটির সাকিন তার ‘সূর্য’ ‘প্রক্সিমা সেনটাওরি’র সেই হ্যাবিটেব্?ল জোনেই। প্রক্সিমা সেনটাওরি অবশ্য পুরোটা আমাদের সূর্যের মতো নয়। এটা লাল বামন নক্ষত্র বা রেড ডোয়ার্ফ স্টার। ভিনগ্রহের আবিষ্কার তো এর আগেও হয়েছে এই ব্রহ্মাণ্ডের নানা মুলুকে। তাহলে সদ্য আবিষ্কৃত ভিন গ্রহ ‘প্রক্সিমা সেনটাওরি-বি’ নিয়ে কেন শুরু হয়ে গেছে এত হইচই? তার কারণ, এর আগে আমাদের এত কাছে আর কোনো ভিন গ্রহের খোঁজ মেলেনি, যা হাবভাবে অনেকটা পৃথিবীর মতোই। প্রক্সিমা সেনটাওরি-বি গ্রহটি রয়েছে পৃথিবী থেকে ৪.২৪ আলোকবর্ষ দূরে। মানে, আমাদের একেবারে হাতের নাগালেই। এখন মহাকাশযানগুলোর যা গতিবেগ, তাতে আজ যাত্রা শুরু করলে আমরা প্রক্সিমা সেনটাওরি-বি গ্রহে পৌঁছাব ৭০ হাজার বছর পরে। এই গ্রহটি তার ‘সূর্য’ প্রক্সিমা সেনটাওরি থেকে এমন একটা দূরত্বে রয়েছে, যাকে বলে হ্যাবিটেব্?ল জোন। মানে, খুব একটা বেশি দূরত্বে নেই। যা থাকলে, তারার আলোর অভাবে, পানি থাকলেও তা বরফ হয়ে যেতে পারে। আবার ওই ভিন গ্রহটি তার ‘সূর্যে’র ততটা কাছেও নেই, যাতে তার প্রচণ্ড তাপে সবটুকু পানি বাষ্পীভূত হয়ে গিয়ে তাকে একেবারে রুখুসুখু, নিষ্প্রাণ করে দিতে পারে। পৃথবীর মতোই এই ভিন গ্রহটি পাথুরে। আদ্যোপান্ত গ্যাসে ভরা গ্রহ নয় প্রক্সিমা সেনটাওরি-বি। ভরের দিক দিয়ে অবশ্য তা একটু বেশি ভারী পৃথিবীর চেয়ে। কম করে ১.৩ গুণ। আর এই ভিন গ্রহটি তার ‘সূর্য’কে খুব কাছ থেকে পাক মারে বলে, তার ‘বছর’ ফুরিয়ে যায় মাত্র ১১.২ পার্থিব দিনে। তবে এই ভিন গ্রহের বায়ুমণ্ডল রয়েছে কি না, এখনো জানা যায়নি। জানা যায়নি, তার চৌম্বক ক্ষেত্র রয়েছে কি না, বা তা থাকলে, তা কতটা শক্তিশালী। কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি ভিন গ্রহ আবিষ্কার করেছে। তার মধ্যে প্রক্সিমা সেনটাওরি-বি ভিন গ্রহটিই রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে। ২০১৩ সালে প্রথম কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের নজরে আসে এই ভিন গ্রহটি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।