চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমদানি কড়াকড়িতে দেশে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২ ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
এলসিতে শতভাগ মার্জিন, ব্যাংক ও খাত ভেদে বকেয়া ঋণ পরিশোধের শর্তসহ অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরে আমদানিতে নানা কড়াকড়ি আরোপে লাগাম পড়েছে দেশের আমদানি ব্যয়। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আমদানি ব্যয় কমেছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে মাত্র দু’টি পণ্যে অর্থাৎ জ্বালানি তেল ও ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে কমেছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের শিল্প উৎপাদনে। বিশেষ করে প্রধান রপ্তানি খাত ও বৈদেশি মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস তৈরি পোশাক খাতে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, ডলার সংকট ও রিজার্ভ বিবেচনায় আমদানি ব্যয় সংকোচন ইতিবাচক হলেও জ্বালানি তেল ও ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে ব্যাপক হ্রাস এ খাতের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত আগস্টে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। যা একমাস আগে অর্থাৎ জুলাই মাসে ছিল ৬ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে একমাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারই কমেছে জ্বালানি তেল ও ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে। তবে ব্যয় বেড়েছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ ও চিনিসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানিতে। এর আগে গত জুলাই মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার যা আগস্টে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪০ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে কেবল জ্বালানি তেল আমদানিতেই ব্যায় কমেছে ৫৭ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়াও ৪৫ শতাংশ ব্যায় কমেছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে। জুলাইয়ে ৬১৭ মিলিয়ন ডলার আমদানির বিপরীতে আগস্টে আমদানি হয়েছে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এলসি খোলার পরিমাণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় অনেকটাই কমেছে। এতে ডলারের ওপর চাপ কমলেও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। এ দিকে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে শীর্ষে রয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রধান এই রপ্তানি খাতে। এদিকে গত কয়েক মাস ধরে জ্বালানি সংকটে দেশে তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল উৎপাদন অনেকাংশে কমেছে। বিশেষ করে সুতা ও ফেব্রিকস উৎপাদন। কিন্তু ক্রয়দেশ ও শিপমেন্ট সময়সীমার কারণে তা চড়া দাম, শতভাগ ক্রয়মূল্যে প্রদানসহ অনেক ক্ষেত্রে এলসি খুলতে দিতে হচ্ছে ব্যাংকের বকেয়া ঋণও। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম ও ডলার মূল্যের কারণে প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ বেড়েছে গেছে উৎপাদন ব্যয়। বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম বলেন, জ্বালানি তেল ও মেশিনারিজ আমদানি অর্ধেকের নিচে নেমে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে শিল্প উদ্যোক্তারা ব্যয় সংকোচন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কারখানাগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিপরীতে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন।

এছাড়াও নানা শর্ত আরোপে আধুনিক মেশিনারিজ সংযোজন করতে পারছে না শিল্পগুলো। ফলে চাহিদা সত্ত্বেও প্রতিযোগিতার বাজারে পিছিয়ে পড়ছে তৈরি পোশাক খাত। এদিকে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে দেশে তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ খাতের ছোট ও মাঝারি অনেক উদ্যোক্তা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বাধ্য হয়ে এসব কাঁচামালের ক্ষেত্রেও আমদানি নির্ভর হচ্ছে শিল্প উদ্যোক্তারা। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিসহ বাড়ছে আমদানি ব্যয়। উদ্যোক্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত অর্ডার থাকা সত্ত্বেও আমদানি জটিলতা ও জ্বালানি সংকটে উৎপাদন হার কমিয়ে দিতে হয়েছে। এতে সময়মতো পণ্যের রপ্তানি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর বাইরে আমদানি ব্যায় কমেছে, কয়লা, ভোজ্যতেল, দুগ্ধ জাতীয় পণ্যে, ফল, আইসিটি পণ্যে, কম্পিউটার, রিফাইন্ড এডিবল ওয়েলে, বিপি শিটসহ মোট ২০ ধরনের পণ্যে। তবে ব্যয় বেড়েছে চাল, ডাল পেঁয়াজ, চিনি ও সিমেন্ট ও সারসহ ১৪টি পণ্যের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বেড়েছে সার আমদানিতে। জুলাইয়ে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হলেও আগস্টে তা ৪৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৪ মিলিয়ন ডলার। চালে প্রায় ৬৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলার। চিনি আমদানিতে জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে ১১ মিলিয়ন ডলার বেশি খরচ হয়েছে। পেঁয়াজ আমদানিতে ৬ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও ওষুধ আমদানিতে জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে এসব নিত্যপণ্যের বাইরে একমাসের ব্যবধানে ব্যয় বেড়েছে মোটরযান ও সিমেন্টের মতো পণ্যে। যথাক্রমে ১৩ ও ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় বেড়েছে এই দু’টি পণ্যে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।