আব্দুল মেম্বারসহ অনেকে ধরা-ছোয়ার বাইরে!

37

জীবননগরে সোনা চোরাচালান মামলায় আরও দুজন আটক
সোনা চোরাকারবারীদের আটকে অভিযান অব্যাহত -ওসি সাইফুল ইসলাম
সমীকরণ প্রতিবেদক:
জীবননগরে বিজিবির চোরাচালানবিরোধী অভিযানে সোনাসহ আটক পুকু মেম্বারের স্বীকারোক্তী মোতাবেক আরও দুজনকে আটক করেছে জীবননগর থানা পুলিশ। উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের মৃত বাকিয়ার কাজীর ছেলে সাবু এবং বাঁকা ইউনিয়নের সুটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে জীবননগর বাজারের জুয়েলার্স ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমানকে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে। পুলিশ জানায়, গত রোববার বিকেলে সোনাসহ আটক পুকু মেম্বার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে। তারমধ্যে সাবু ও হাফিজুরের নামও উল্লেখ করেন পুকু মেম্বার। তাই গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সাবু ও হাফিজুরকে সোনা চোরাচালান মামলায় আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের মাঠ থেকে ১ কেজি ৬৩ গ্রাম সোনাসহ সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইস্রাফিল হোসেন ওরফে পুকু মেম্বারকে গত রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আটক করা হয়। আটকের পর তাঁর কাছ থেকে সোনা, মোটরসাইকেল, নগদ টাকাসহ সর্বমোট ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬১৬ টাকা উদ্ধার করে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান মামলা দিয়ে জীবননগর থানা-পুলিশের কাছে দিয়ে দেয় বিজিবি। এ মামলায় পুকু মেম্বারসহ অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামী করা হয়। পরে পুকুর স্বীকারোক্তী মোতাবেক আব্দুল মেম্বার, হাফিজুর, সাবুসহ পুরো সিন্ডিকেটকে আটক করতে মাঠে নামে পুলিশ। এ ধারাবাহিকতায় হাফিজুর ও সাবুকে আটক করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁদের দুজনকে সোনা চোরাচালান মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে, চিহ্নিত চোরাকারবারী ও পুকু মেম্বারের সব থেকে ঘনিষ্ঠ সহযোগী আব্দুল মেম্বারসহ অন্যরা এখনো ধরা-ছোয়ার বাইরে রয়েছেন। পুলিশ আটক অভিযান অব্যাহত রাখলেও তাঁরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকে জানান, সীমান্ত ইউনিয়নের পুকু মেম্বার, আব্দুল মেম্বার, নতুনপাড়ার সাবু ও সুটিয়ার হাফিজুর মিলে দীর্ঘদিন ধরে সোনা চোরাকারবারীর ব্যবসা করে আসছেন। এছাড়া এই সিন্ডিকেটে আরও অনেকের নাম মানুষের মুখে মুখে রটলেও তাঁরা রয়েছেন ধরা-ছোয়ার বাইরে। এছাড়া আব্দুল মেম্বার, সাবুসহ এই সিন্ডিকেটের অনেক সদস্যদের প্রকাশ্যে কোনো আয় না থাকলেও তাঁদের স্বচ্ছল ও আলিশান চলাফেরায় সন্দেহের তীর অনেক আগে থেকেই তাঁদের ওপরে রয়েছে এলাকাবাসীর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুনপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘সাবু কিছুই করে না, সে কীভাবে আলীশান বাড়ি করে। অর্থ আয় না করেও সে মাসে মাসে জমি কীভাবে ক্রয় করে। আমরা দিনরাত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও কোনো কিছু করতে পারছি না। আর সাবু দুই বছরের মধ্যে এত টাকা-পঁয়সার মালিক কীভাবে হলো। প্রশাসন যদি সঠিকভাবে তদন্ত করে, তাহলে এদের অর্থের উৎস পেয়ে যাবে।’
এবিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পুকু মেম্বারের স্বীকারোক্তীতে আমরা এই সোনা সিন্ডিকেটের অনেকের নাম পেয়েছি। এর মধ্যে সাবু ও হাফিজুরকে আটক করে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে প্রেরণ করেছি। এছাড়া আরও যাদের নাম পেয়েছি, তাঁদের সবাইকে আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।