আবার জঙ্গি আস্তানার সন্ধান!

353

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর এত কঠোর অবস্থান ও নজরদারির পরও জঙ্গিরা যে বসে নেই এবং তারা যে অপতৎপরতার নানা রকম ছক কষে চলেছে ১৫ মার্চ ২০১৭ তারিখ সীতাকুন্ডের ঘটনাটি পুনর্বার তাই উন্মোচন করে দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড পৌরসভার চৌধুরীপাড়া এলাকার ‘ছায়ানীড়’ নামের দোতলা একটা বাড়ি ১৫ মার্চ ২০১৭ তারিখ বেলা তিনটা থেকে ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়ির ভেতর থেকে তিন দফায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি বোমা ছুড়ে মারে জঙ্গিরা। এতে পুলিশের এক কর্মকর্তা আহত হন। জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে পুলিশও কয়েক দফা গুলি ছোড়ে। এর আগে কয়েক দফা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফে ওই বাড়ি থেকে জঙ্গিদের বের হওয়ার জন্য মাইকিং করা হলেও ভেতর থেকে জঙ্গিরা কোনো সাড়া দেয়নি।
সর্বশেষ খবরে জানা যায়, ওই জঙ্গি আস্তানায় চালানো অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিনে চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১ জন নারী ও তিনজন পুরুষ জঙ্গি রয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তারা নব্য জেএমবির সদস্য। ওই বাড়িতে জিম্মি থাকা সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাড়িতে প্রচুর গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে। অভিযান চালানোর সময় সোয়াত টিমের দুইজন, পুলিশের একজন ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হয়েছেন। একই দিন সীতাকুন্ড পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকায় নামারবাজার ‘সাধন কুটির’ নামের একটি বাড়িতে জঙ্গিদের আরেকটি আস্তানা থেকে জসিম ও আরজিনা নামের দুই জঙ্গিকে আটক করে পুলিশ। চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুন্ডে পরপর জঙ্গিদের কয়েকটি আস্তানা শনাক্তের বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই অন্ধকারের শক্তি নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। একটি গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, সীতাকুন্ডের দুই জঙ্গি আস্তানার জঙ্গিরা হয়তো চট্টগ্রামে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। আমরা মনে করি, এতকিছুর পরও তাদের নেটওয়ার্ক যে পুরোপুরি ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা যায়নি বিদ্যমান বাস্তবতা এরও সাক্ষ্যবহন করছে। বিদ্যমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, জঙ্গিদের অপতৎপরতা নির্মূলে কিংবা এদের শিকড়-বাকড় উৎপাটনে আরো দূরদর্শী পরিকল্পনার ভিত্তিতে জঙ্গিবিরোধী লাগাতার কার্যক্রম জোরদারভাবে অব্যাহত রাখতে হবে। চিহ্নিত করতে হবে এদের মদতদাতা ও অর্থেও জোগানদাতাদের। সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটিয়ে এদের সমূলে উৎপাটনে সংঘবদ্ধ কার্যক্রম চালাতে হবে সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে। বিষয়টি যেহেতু রাজনৈতিক সেহেতু এ ব্যাপারে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। সরকারকে এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে। এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। ধর্মের নামে কখনোই তারা উগ্রতা-খুনোখুনি-রক্তারক্তি কিংবা পৈশাচিকতা পছন্দ করে না। তারা অতীতেও এমন কর্মকান্ড মেনে নেয়নি ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না। জনগণের এই চেতনা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়েই অন্ধকারের শক্তিকে চিরতরে হটিয়ে দিতে সম্মিলিত প্রয়াস চালাতে হবে।