চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য বাড়াতে হবে

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাতিগত নির্মূল অভিযানের কারণে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এখন অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। খাবার ও নিরাপদ পানির সঙ্কট তীব্র হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ ছোট একটি পাহাড়ি এলাকায় ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা বসবাস করছে। রোহিঙ্গারা যে কতটা অমানবিক ও সঙ্কটজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, জাতিসঙ্ঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের পরিসংখ্যানে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা শিশুদের এক-চতুর্থাংশ অপুষ্টিতে এবং ৪০ শতাংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৫ শতাংশ শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। এর আগে বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৫ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার। ইউনিসেফ জানিয়েছে, সমীক্ষার আওতায় আসা অর্ধেক শিশুই রক্তস্বল্পতায় ভুগছে, ৪০ শতাংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এবং ৬০ শতাংশ শ^াসকষ্টজনিত রোগের শিকার। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কুতুপালং, নয়াপাড়া ও ক্যাম্পের বাইরে টেকনাফের এক হাজার সাত শতাধিক শিশুর ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এ চিত্র পেয়েছে ইউনিসেফ। শরণার্থীদের অবস্থান বাংলাদেশে যত দীর্ঘ হবে, এ ধরনের মানবিক বিপর্যয় আরো বাড়তে থাকবে। বাংলাদেশের পক্ষে এই বিপুলস শরণার্থীর বোঝা কোনোভাবেই বহন করা সম্ভব নয়। শরণার্থীশিবিরে থাকা শিশুদের সাথে আরো নতুন শিশু যোগ হবে। এরা সবাই বেড়ে উঠবে অপুষ্টি ও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে। ইউনিসেফের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের মধ্যে ১৬ শতাংশ শিশু সর্বনি¤œœ পরিমাণ খাবার খেতে পারে, যা তাদের দৈহিক বৃদ্ধি ও দেহগঠনের জন্য খুবই কম এবং ৩০ শতাংশের বেশি ছয় মাসের কম বয়সী শিশু মাতৃদুগ্ধ ছাড়াও অন্য কিছু খেয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। এ ছাড়া অপুষ্টি, ডায়রিয়া ও জীবাণুঘটিত রোগ শিশুদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। রোহিঙ্গাদের নূন্যতম চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের নিজস্ব সামর্থ্যরে অভাবের সাথে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিমাণ যথেষ্ট নয়। ফলে শরণার্থীশিবিরগুলোতে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় সাহায্যের পরিমাণ কমবে। এর প্রভাব শুধু শিশুদের ওপর পড়বে না অন্যদের ওপরও পড়বে। বাস্তবতা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় ধরে ১০ লাখ লোকের খাদ্য সরবরাহ করা অত্যন্ত দুরূহ। রোহিঙ্গাদের নিজ আবাসভূমিতে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমেই কেবল অমানবিক পরিস্থিতির অবসান সম্ভব। অর্ন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য যাতে রোহিঙ্গারা নূন্যতম খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরো তৎপর হতে হবে। তাদের সহযোগিতা বাড়াতে হবে, না হলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।