আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক

14

আলমডাঙ্গা অফিস:
গরু চুরি করে পাচারের সময় আলমডাঙ্গায় আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের সক্রিয় ৬ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ মুন্সিগঞ্জ রেল গেইট এলাকা থেকে তাঁদের আটক করে। এঘটনায় তিনটি গরু ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৬ সদস্যরা কুষ্টিয়া জেলা শহরের বটতৈল এলাকা থেকে চুরিকৃত ৩টি গরু ট্রাক তোলে। ট্রাকযোগে জীবননগরের মহেশপুরে পৌঁছে দিতে আলমডাঙ্গা উপজেলাধীন ডাউকি ইউনিয়নের বাদেমাজু গ্রামের নজরুল মণ্ডলের ছেলে ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
ফারুক চুয়াডাঙ্গা শহরের তানজিল হোসেনের (ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৭১৯) ট্রাক দীর্ঘদিন ধরে ভাড়ায় চালান। কুষ্টিয়া-মহেশপুর ট্রাক ভাড়া ৮ হাজার টাকা। অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে মালিকের অনুপস্থিতিতে রাত সাড়ে তিনটার দিকে কুষ্টিয়া শহর থেকে চোরাই গরু তোলে গাড়িতে। ট্রাকযোগে চোরাই গরু পাঁচারকালে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের নিকট চোরাই গরু পাচারের গোপন সংবাদ আসে। এসময় পৌর এলাকার বণ্ডবিলের নিকট পেট্রোল ডিউটিতে চেকপোস্ট বসায় থানা পুলিশ। রাত সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ওই ট্রাকে সিগনাল দিলে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশও ট্রাকের পিছু ধাওয়া করে। এসময় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ কৌশল অবলম্বন করে। ফোনে মুন্সিগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশের সহযোগিতায় রেল লাইনের গেট ফেলে দেয়। আলমডাঙ্গা থানা ও মুন্সিগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ ট্রাকটিকে ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধাওয়া করে পুলিশ ট্রাক ড্রাইভারসহ ৬ জনকে আটক করে।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার বাদেমাজু গ্রামের ফারুক হোসেন, নাগদাহ গ্রামের বিপ্লব, কাবিলনগর গ্রামের জকিম উদ্দিন, দামুড়হুদা উপজেলার শাহিন আলী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নফরকান্দি গ্রামের আলিম হোসেন ও মোমিনপুর গ্রামের সোহাগ আলী। তাঁদের বিরুদ্ধের চুরি সম্পর্কিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট মামলায় তাঁদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘আমরা সংবাদ পেয়ে রাতে বন্ডবিল এলাকায় পুলিশি অভিযান পরিচালনা করি। তারা পুলিশ দেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয়। এ ব্যাপারে বাদী আনছার আলী কুষ্টিয়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরে কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) মামুনুর রশিদ ফোর্স নিয়ে আলমডাঙ্গা থানায় এলে তার কাছে আসামি ও সমস্ত আলামত বুঝিয়ে দিলে তারা আসামিদের কুষ্টিয়ায় নিয়ে যায়। আসামিদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় ডাকাতি মামলা আছে। এছাড়াও বিভিন্ন থানায় তাদের নামে একাধিক মামলা আছে বলে জানা গেছে।