চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২২ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আদৌ কি খুলবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ২২, ২০২২ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কবে নাগাদ খুলতে পারে তা নিশ্চিত করে কেউ জানেন না। এমনকি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে জানে না! গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারটি যাতে দ্রুতই খুলে যায় সেজন্য দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে আগেই। এরপর সবাই আশা করছিলেন, চুক্তি যেহেতু হয়েছে, যেকোনো সময় দেশ থেকে শ্রমিক যাওয়া শুরু হবে। কিন্তু না, পাঁচ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও শ্রমবাজারটি খোলার ব্যাপারে কোনো দিক থেকেই কোনো ভালো খবর না আসায় জনশক্তি ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত সহস্রাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক এবং অপেক্ষায় থাকা লাখো বিদেশগামী শ্রমিক হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সাধারণ ব্যবসায়ীসহ অনেকের অভিযোগ, শুধু ‘সিন্ডিকেটশন’ করে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার কারণে শ্রমবাজারটি খুলছে না। ২০১৬ সালে যে ১০ সদস্যের সিন্ডিকেট মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি কুক্ষিগত করে অবৈধভাবে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল, এবারো সেই পদ্ধতিতেই (১০ এর পরিবর্তে ২৫) শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে সিন্ডিকেট করার পাঁয়তারা শুরু হয়েছে।

কিন্তু তার আগেই ‘বায়রা সিন্ডিকেট বিরোধী মহাজোট’সহ একাধিক গ্রুপ আটঘাট বেঁধে মাঠে নামায় সিন্ডিকেট করতে চাওয়া আমিন ও রুহুল আমিন স্বপন গ্রুপটি এখনো সফল হতে পারছে না। তারপরও সিন্ডিকেটের সদস্যরা যেকোনো ‘কৌশলে’ হোক মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি যাতে তাদেরই নিয়ন্ত্রণে রেখে ওপেন করা যায় সেই লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে রুদ্ধদ্বার বৈঠকসহ নানা কার্যক্রম চলছে বলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্যরা কখনো সংবাদ সম্মেলন করে, আবার কখনো মানববন্ধন করে আবার কখনো স্মারকলিপি দিয়ে জানান দিচ্ছেন। এবার ‘বায়রা সিন্ডিকেট বিরোধী মহাজোট’ এর ব্যানারে গোলটেবিল বৈঠক করার আয়োজন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে ‘মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে কোনো প্রকার সিন্ডিকেটকে অনুমোদন না দিয়ে বাংলাদেশের কম্পিটিশন আইন অনুযায়ী এবং মালয়েশিয়ার অন্যান্য শ্রমিক প্রেরণকারী ১৩টি সোর্স কান্ট্রির ন্যায় বাংলাদেশের সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ককার্স সভাপতি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন, বায়রা সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নূর আলী, বায়রার সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা, বায়রার সাবেক মহাসচিব রিয়াজুল ইসলাম, সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারম্যান এম এস সেকিল চৌধুরী, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও বায়রার সাবেক মহাসচিব অভিজ্ঞ জনশক্তি ব্যবসায়ী বিশ্লেষক শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান প্রমুখ। এর আগে ২০টি সংগঠনের মোর্চা নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ফর মাইগ্রেশনের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়া হয়। গত শুক্রবার মালয়েশিয়া থেকে একাধিক জনশক্তি ব্যবসায়ী শ্রমবাজারের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, শ্রমবাজার খোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে মালয়েশিয়া থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী ২৬ মে ঢাকায় যাওয়ার শিডিউল রয়েছে। জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির ওই বৈঠকে শ্রমিক পাঠানোর ইস্যু নিয়ে আলোচনা এবং একটি ভালো ফলাফল হতে পারে। এই অবস্থায় যে ২৫ লাইসেন্স মালিক মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে পুনরায় সিন্ডিকেট করতে চাচ্ছে তারা সিন্ডিকেট করতে ব্যর্থ হলে শ্রমবাজারটি ক্ষতি করার জন্য নানা হিসাব করছে বলে শুনছি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে গোপন বৈঠকও হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, ইতোমধ্যে সিন্ডিকেটের সদস্যরা জেনেছে এবার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করাটা অনেকটাই কঠিন হবে। যদি না পারে তাহলে বাংলাদেশের নামটি যাতে সোর্স কান্ট্রি হিসেবে না থাকে, কিন্তু বাংলাদেশ হচ্ছে মালয়েশিয়ার যে কয়টি দেশ রয়েছে সোর্স কান্ট্রিভুক্ত তার একটি। মালয়েশিয়া বিদেশী লোক নিতে চাইলে অবশ্যই সোর্স কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে নিতে হবে। এখন দুই দেশের বৈঠকের সিদ্ধান্ত কী হয় সেটির অপেক্ষায় থাকা ছাড়া উপায় নেই। এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, মালয়েশিয়ার কেএসএম (হিউম্যান মিনিস্ট্রি) থেকে বিশেষ এপ্রুভাল দেয়া শুরু হয়েছে। ওই এপ্রুভালে নেপাল, ইন্দেনেশিয়া থেকে শ্রমিক আসা শুরু হয়েছে। ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০০ রিংগিট।

বাংলাদেশের শ্রমবাজার কবে খুলবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, ২৫ লাইসেন্স যেভাবে সিন্ডিকেট করতে চাইছে সেভাবে তারা পারছে না। এ নিয়ে সিন্ডিকেটের মালয়েশিয়ার প্রধান দাতো শ্রী আমিন নুর আর ঢাকার প্রধানের বনানীর অফিসে গত পরশু জরুরি বৈঠক হয়েছে। শুনেছি সেখানে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, এবার সিন্ডিকেট করাটা খুবই জটিল হবে। তারপরও তারা হাল ছাড়বেন না। শেষ চেষ্টাটা করে যাবেন। অপর দিকে বায়রা সিন্ডিকেট বিরোধী মহাজোটের বক্তব্য হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট হলে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। একই সাথে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।