আদিম যুগের নিয়মে এখনো চলছে আড়ৎ ব্যবসা দর্শনায় নীরবে ঠকছে চাষী

383

20170516_112606-1ওয়াসিম রয়েল: পৃথিবীর সৃষ্টির পর আদিম যুগের মানুষরা লেখাপড়া জানতো না। মানুষ তার নিজের সভ্যতা বিকাশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। আর ব্যাবসা বানিজ্যের ক্ষেত্রে তার নিয়মনীতি অনুসারে এখনো কাজে লাগিয়ে আসছে আমাদের দেশের কিছু সুবিধাবাদি ভুষিমাল আড়ৎ ব্যাবসায়ীরা। এক সময় রোমানিয়রা ব্যাবসা বানিজ্যের হিসাব, বয়সের সঠিক হিসাব থেকে শুরু করে সকল প্রকার হিসাব নিকাশ রাখতে মাটিতে দাগ কেটে রোমান সংখ্যা ব্যাবহার করতো। তারই ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর অনেক দেশে এ রোমান সংখ্যা ব্যাবহার হত। এর মধ্যে এশিয়া মহাদেশের প্রত্যেকটি দেশে এ রোমান সংখ্যা ব্যাবহার করে সকল হিসাব নিকাশ করা হত। যুগ পাল্টে গেছে আদিম যুগের মানুষগুলিও নেয়। প্রত্যেকটি দেশে তাদের স্ব-স্ব ভাষায় হিসাব নিকাশ বিরাজমান। এমত অবস্তায় বাংলাদেশ সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সকল প্রকার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যেখানে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মানুষের সকল প্রকার মৌলিক চাহিদায় আধুনিকতার ছোয়া বইছে সেখানে ভুষিমাল ও আড়ৎ ব্যাবসায় আদিম যুগের মানুষের মত দাগ কেটে রোমান সংখ্যা ব্যাবহার হচ্ছে হিসাব নিকাশে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আড়ৎ ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে জানাযায় যখন কোন চাষীর কাছ থেকে আমদানীকৃত মালামাল আড়তে কেনা হয় তখন ঐ মাল কাটা পাল্লায় ওজনের সময় রোমান সংখ্যা ব্যাবহার করে হিসাব নিকাশ করা হয়। আবার একই মাল বড় বড় ব্যাবসায়ীদের কাছে রপ্তানি করার সময় ঠিকই ডিজিটাল পাল্লায় ওজন দেওয়া হয়। কাটা পাল্লায় ক্রয় করে বিক্রয়ের জন্য ডিজিটাল পাল্লায় ওজন দিলে মালের ওজন এমনিতেই বেড়ে যায়। এ কি করে সম্ভব। এর কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন বাস্তার ওজন ঢলতা ইত্যাদী দিয়ে বুজিয়ে দেন। একজন গরীব সহজসরল চাষীর কাছ থেকে জানাযায় মালামাল যখন ওজন দেয় ১,২,৩ লেখা জানলেও রোমান সংখ্যার ব্যাবহার ক্ষেত্রে তার কোন ধারনা নেয়। তাই ওজনের সময় এ রোমান সংখ্যার একটি দাগ যদি মনের অজান্তে না কাটে তাহলে ঠকবে ঐ গরিব চাষী আর লাভবান হবে ভুষিমাল আড়ৎ ব্যাবসায়ী। এরই প্রেক্ষিতে খোজ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে বেশ কিছু আড়ৎ ব্যাবসায়ীরা হচ্ছে অল্প দিনে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। প্লানে করছে আলিশান বাড়ি ও কিনছে দামি দামি গাড়ি। অন্যদিকে যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করছে সে সকল চাষীরা ঠকছে নীরবে। দর্শনা, দোস্ত বাজার, হিজলগাড়িসহ চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় এ রোমান সংখ্যা ব্যাবহার করছে আড়ৎ ব্যাবসায়ীরা। সুধী সমাজের মানুষ  সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের দৃষ্ঠি কামনা করে বলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারের সহজোগিতাই যথাযথ আধুনিক ব্যাবস্থা গ্রহন করলে গরীব চাষীরা  যেমন নীরবে ঠকবে না বলে মনে করেন তেমনি বংলাদেশ সরকারের স¦প্ন পুরনে সহযোগিতার হাত বাড়ানো হবে। পরিশেষে এ বিষয়ে কয়েকজন আড়ৎ ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন সরকারের স্বপ্ন পুরনে দেশকে এগিয়ে নিতে আধুনিকায়নের চরম শিখরে পৌছাতে সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন করতে প্রস্তুত বলে মনে করেন তারা।