আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে

61

প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে
বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। কিন্তু মানুষ কি সচেতন হচ্ছে? গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনটি জাতীয় দৈনিক, পুলিশ ও হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে আঁচল ফাউন্ডেশন যে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা এককথায় ভয়াবহ। সংগঠনটি বলছে, করোনাভাইরাসকালে এক বছরে দেশে ১৪ হাজার ৪৩৬ জন আত্মহত্যা করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী ২০১৯ সালে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছিল। ব্যুরোর জরিপের সঙ্গে আঁচলের এই প্রথম জরিপের বিশ্লেষণে দেখা যায়, কভিডের এক বছরে আত্মহত্যার সংখ্যা ২০১৯ সালের তুলনায় চার হাজার বেশি। মানুষ নানা কারণে আত্মহত্যা করে বা করতে পারে। এর মধ্যে আছে ডিপ্রেশন, ব্যক্তিত্বে সমস্যা, গুরুতর মানসিক রোগ বা স্বল্পতর মানসিক রোগ। তা ছাড়া মাদকাসক্তি, অপরাধ বোধ, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, দাম্পত্য কলহ, প্রেম-কলহ, অভাব-অনটন, দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা, যৌন নির্যাতন, মা-বাবার ওপর অভিমান, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট, প্রেমে ব্যর্থ ও প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে আত্মহত্যা করে। সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা সংঘটিত হয় ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার জন্য। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমানে আত্মহত্যার মতো ঘটনা বেড়ে চলার পেছনে মূল কারণ কিছু মানুষ অতিলোভী হয়ে গেছে। পরকীয়া, ফেসবুকের অপব্যবহার, আধিপত্যসহ সার্বিক পরিস্থিতিটাই অন্য রকম হয়ে গেছে। তুচ্ছ কারণেও অনেকে আত্মহত্যায় ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যার প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করতে হবে। অভিভাবক ও পরিবার এখানে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের বুঝতে হবে বিষয়টি। তাঁদের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। আবার সমাজও কিন্তু এখানে অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যদি উন্নত থাকে, তাহলে এটি প্রতিরোধ সম্ভব। আবার করোনার সময় মানুষ ঘরবন্দি হয়েছে। নাগরিক জীবনে খেলাধুলার সুযোগও কম। চিকিৎসকরা বলছেন, নিয়মিত শরীরচর্চা মস্তিষ্কে একটি রাসায়নিক তৈরি করে। এই রাসায়নিকটার নাম এন্ডোরফিন। এন্ডো মানে ভেতরে। আর মরফিন বের হলে আনন্দ তৈরি হয়। সুখানুভূতি তৈরি হয়। এন্ডোরফিন যদি মস্তিষ্কে তৈরি হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে কিন্তু সুখানুভূতি তৈরি হবে। পাশাপাশি মনের ভালো লাগাটাও বাড়বে। কাজেই আমাদের সবাইকে নিজেদের আনন্দে রাখতে হবে। পরিবার ও সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। এভাবেই আত্মহত্যা প্রতিরোধ অনেকাংশে সম্ভব হবে।