আত্মগোপনে থাকা স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার

30

চুয়াডাঙ্গায় পাওনাদারকে ফাঁসাতে অপহরণের নাটক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় দেনার দায়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে পাওনাদারকে ফাঁসাতে আত্মগোপনে থাকা রুবিনা খাতুনকে উদ্ধার করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের নাটক সাজানো রুবিনা খাতুন (৩০) দামুড়হুদা উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের মৃত আবু বক্করের মেয়ে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন সন্ধ্যার দিকে অপহৃত রুবিনার মা বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন- তাঁর মেয়ে রুবিনা খাতুন (৩০), তার স্বামী রাসেল (৩৫) ও তার তিন সন্তানসহ গত ১৫ জুন দুপুর ১২টার দিকে নিখোঁজ হয়। পরে ১৯ জুন বিকেল ৫টার দিকে রুবিনা নিজ ফোন নম্বর দিয়ে তাঁর ভাই আসাদুজ্জামানকে কল দিয়ে বলেন তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পাড়াস্থ ডিজিটাল মোড়ে সাইদুরের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ খানের নির্দেশে এসআই নিতিশ চন্দ্র সেখানে গিয়ে তল্লাশী চালিয়ে ঘটনার কোনো সত্যতা পাননি।
ঘটনাটি আরও সন্দেহপ্রবণ হওয়ায় পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ খানের তত্ত্বাবধানে সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিতিশ চন্দ্র তদন্ত শুরু করেন। পরে পুলিশের বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম গত ২২ জুন রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে।পর দিন গতকাল বুধবার রাতে তাঁদের চুয়াডাঙ্গা থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
উদ্ধারকৃত কথিত অপহৃত ভিকটিমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, তাঁকে কেউ অপহরণ করেননি। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পাওনাদারদের চাপে, পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন।
এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নিরাময় ক্লিনিকের মালিক জনৈক সাইদুরের নিকট থেকে উল্লেখিত কথিত ভিকটিম ও তাঁর স্বামী সম্পূর্ণ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে টাকা ধার নিয়েছিলেন। সাইদুর পাওনা টাকার জন্য তাঁকে চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে রুবিনা ও তাঁর স্বামী রাসেল এই অভিনব নাটক রচনা করেন। তিনি আরও বলেন, কথিত অপহৃত ভিকটিমকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান আছে।