চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৫ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সতর্কতা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ২৫, ২০২২ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ বিশ্বজুড়ে দুই বছর ধরে কোটি কোটি মানুষের মনে একধরনের ভীতি তৈরি করেছে। করোনার কারণে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই কয়েকটি দেশে দেখা দিয়েছে নতুন আতঙ্ক মাঙ্কিপক্স ভাইরাস। অনেকটা গুটিবসন্তের মতোই লক্ষণযুক্ত এ রোগটি এরই মধ্যে বিশ্বের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। করোনার মতো প্রাণঘাতী না হলেও নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করা মাঙ্কিপক্স ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এরই মধ্যে শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ২০-৪০ বছর। আরও বহু মানুষ সংক্রমিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও। এ অবস্থায় বাংলাদেশে ভাইরাসটির বিষয়ে বিশেষ নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মাঙ্কিপক্স করোনার মতো ততটা ভয়াবহ না হলেও সংক্রমিত দেশ থেকে যেহেতু মানুষ আসছে, তাই শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারলে সহজেই শনাক্ত করা যাবে। এই ভাইরাস আফ্রিকার যেসব স্থানে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে, সেখানে ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রাণহানি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ শতাংশের কম। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মাঙ্কিপক্সের উপসর্গ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, মাংসপেশির টান ও অবসাদের মতো শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। জ্বর আসার এক থেকে তিন দিনের মধ্যে হাতে-মুখে র‌্যাশ, ফোসকা পড়ে যায়। ক্রমেই তা মাথা থেকে শুরু করে পায়ের পাতাসহ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। শরীর প্রচণ্ড চুলকায়।

১৯৫৮ সালে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের খাঁচাবন্দী বানরের মধ্যে ভাইরাসটি প্রথম ধরা পড়ে। মানুষের শরীরে প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭০ সালে। এখন পর্যন্ত মধ্য আফ্রিকান ও পশ্চিম আফ্রিকান নামে দুটি ধরন পাওয়া গেছে। ইউরোপের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালজুড়েই বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উৎসব হয়ে থাকে, ফলে সংক্রমণের মাত্রা আরও ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে শঙ্কা ডব্লিউএইচওর। যেহেতু ভাইরাসটি প্রতিরোধে এখনো নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। সাধারণত মাস্ক পরা, সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া-এগুলো চালিয়ে যেতে হবে। তাই সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারলে সহজেই শনাক্ত করা যাবে। সংক্রমিত দেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে এলে রোগটিরও প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনাও বাইরে থেকেই এসেছিল। সে জন্য দেশের সব প্রবেশপথ, অর্থাৎ বিমানবন্দর, স্থলবন্দরগুলোতে মেডিকেল অফিসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সন্দেহভাজন কেউ এলে দ্রুত শনাক্ত করে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সারা দুনিয়ার পরিস্থিতি দেখে, তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা। চিকেনপক্সের (জলবসন্ত) কোনো রোগী পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানাতে হবে। এই ভাইরাস রোধেও মাস্ক ব্যবহার জরুরি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।