চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আতঙ্কের নগরী আলমডাঙ্গাতে সপ্তাহ না ঘুরতেই আবার হত্যাকাণ্ড!

শ্বাসরোধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুনের ঘটনা : বৃদ্ধ দম্পতির হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে : এসপি মামুন

হামিদুল আজম/নাহিদ হাসান: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে ষাটোর্ধ্ব দম্পতির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার পুরাতন বাজার এলাকা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। আলমডাঙ্গা পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার নিজ বাড়ির পৃথক পৃথক জায়গা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার অধুনালুপ্ত শিলা সিনেমা হলের মালিক ও ধান চাল ব্যবসায়ী পুরাতন বাজার পাড়ার বাসিন্দা নজির উদ্দির (৭০) ও তার স্ত্রী ফরিদা খাতুন (৬০)। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নজির আলী ও ফরিদা খাতুনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চুয়াডাঙ্গা থেকে যাওয়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দলও গতকাল দুপুর থেকে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা এসপি স্যারের নির্দেশনায় এই হত্যার রহস্য উন্মোচনসহ খুনিদের গ্রেপ্তারে জোর অভিযান চালাচ্ছি।’

নিহত দম্পতির জামাতা ওয়াহেদুজ্জামান অহিদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর শ্বশুরের সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নজির আলী তাঁর স্ত্রীসহ ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। শনিবার সকালে নজির আলীর স্বজনেরা বাড়িতে এসে দেখেন, বাড়ির বাইরে থেকে তালা দেওয়া। পরে তাঁরা জানালা দিয়ে দেখতে পান, ঘরের ভেতরে ফরিদা খাতুনের লাশ পড়ে আছে। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. স্বপন বেলা ১১টার দিকে মুঠোফোনে থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির শৌচাগার থেকে নজির আলীর লাশ ও কক্ষ থেকে ফরিদা খাতুনের লাশ উদ্ধার করেন।
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘তালা খোলার পর আলমডাঙ্গা থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে আমরাও ভেতের প্রবেশ করি। এ সময় ঘরের ভেতরে ওই গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ ও ঘরসংলগ্ন শৌচাগার থেকে ব্যবসায়ীর লাশ দেখতে পাওয়া যায়। উভয়ের গলা থেকে মাথা পর্যন্ত ওড়নাজাতীয় কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।’

এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম। তবে, হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রাথমিকভাবে এখনও জানা যায়নি। তাদেরকে হত্যা করে ঘরের মধ্যে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে রেখে গিয়েছিল হত্যাকারীরা। নজির উদ্দিনকে শৌচাগারের ভিতর হাত, পা বেঁধে শ্বাসরোধে ও তার স্ত্রীকে ঘরের মেঝেতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্রাইম সিন অক্ষত রাখা হয়েছে। পিবিআই ও সিআইডি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে যে বা যাহারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদেরকে খুব দ্রুত চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, স্থানীয়রা জানান, নিহত নজির জমি জালিয়াতি চক্রের হোতা ছিলেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।