চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আট মাসে ৩৬৪ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২ ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন: গত বুধবার রাতে রাজধানীর বাসাবোতে পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে মোরসালিন ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। তিনি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুগদা শাখার দশম শ্রেণির (বিজ্ঞান শাখা) শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল তার। জানা যায়, মোটরসাইকেল কিনে না দেয়ায় পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে মোরসালিন। সম্প্রতি একটি বাসার ১০ তলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে পারমিতা ফাইহা নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। সে হলিক্রস স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আত্মহত্যা করার সময় তার গায়ে স্কুল পোশাকও ছিল।

জানা যায়, উচ্চতর গণিতে পাস না করায় এই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। তাদের মতো দেশে একের পর এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরে ৮ মাসে ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এরমধ্যে ১৯৪ জন স্কুল শিক্ষার্থী। আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০ দশমিক ৭১ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী এবং ৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল ভার্চ্যুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এসব তথ্য তুলে ধরে। এতে বলা হয়, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯৪ জন স্কুলগামী শিক্ষার্থী। ৭৬ জন কলেজ, ৫০ জন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪৪ জন মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য সাইকোথেরাপি, ইতিবাচক মনোভাব, সহানুভূতি, বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করা, কথা বলার ও আবেগ ভাগাভাগি করার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এ ছাড়া আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে হলে নীতিনির্ধারকদের প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। গণসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে আরও বেশি করে সমন্বিত প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মের সুযোগ সৃষ্টি ও কর্ম নিশ্চয়তা প্রদান করা দরকার। ক্রমবর্ধমান অসমতা দূরীকরণ ও সেইসঙ্গে দরকার সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

আত্মহত্যাকারীদের অবস্থান বিবেচনায় শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। ঢাকায় গত ৮ মাসে শতকরা ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক পড়ুয়া ৫৩ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

একই সময়ে ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এবং ১২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, চলতি বছরে প্রেমঘটিত কারণে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেছেন। অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ২৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে চাওয়া-পাওয়ার অমিল হওয়ায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং পারিবারিক কলহের কারণে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ আত্মহত্যা করেছেন। ধর্ষণ কিংবা যৌন হয়রানির কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর মানসিক সমস্যার কারণে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।