চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আট বছর পর ফাইনালে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান

এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই আজ
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২ ৪:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন: পনেরোতম এশিয়ার কাপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান। টি-২০ ফরম্যাটের এ আসরে গ্রুপ ও সুপার ফোরের সেরা দল হয়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছেছে এই দুই দল। আট বছর পর আবারো এশিয়া কাপের ফাইনাল শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান। ২০১৪ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে শ্রীলঙ্কার কাছে ৫ উইকেটে হেরেছিল পাকিস্তান। এবার সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে অর্থাৎ ফাইনালের ড্রেস রিহার্সেল ম্যাচেও ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতেছে লঙ্কানরা। ফলে এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ডাবল প্রতিশোধের পালা পাকিস্তানের। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। এখন পর্যন্ত ২২ বার টি-২০তে মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এর মধ্যে ১৩ বার জিতেছে পাকিস্তান। ৯ বার শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের জয়ের পাল্লা ভারী থাকলেও এশিয়া কাপের মঞ্চে ১৬ বারের লড়াইয়ে ১১ বার জিতেছে লঙ্কানরা বিপরীতে পাঁচবার জয় আছে পাকিস্তানের।

এবারের আসরে ভিন্ন দুই গ্রুপে ছিল শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। নিজ নিজ গ্রুপে হার দিয়ে এবারের আসর শুরু করে উভয়েই। আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপে আফগানিস্তানের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছিল শ্রীলঙ্কা। তবে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ২ উইকেটে হারিয়ে সুপার ফোরের টিকিট পায় লঙ্কানরা। একই গ্রুপ থেকে সুপার ফোরে উঠে আফগানিস্তান। সুপার ফোরে প্রথম ম্যাচে আফগানদের ৪ উইকেটে উড়িয়ে দেয় লঙ্কানরা। পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখে দাসুন শানাকার দল। আফগানিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে শেষ ওভারে ম্যাচের নিষ্পত্তি করে শ্রীলঙ্কা। তবে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করতে হয়নি লঙ্কানদের। ১৭ ওভারের মধ্যে ৫ উইকেটে জয়ে ফাইনালের আগে প্রস্তুতিটা ভালোভাবে সেরে নেয় দ্বীপরাষ্ট্রের খেলোয়াড়রা। হার দিয়ে আসর শুরু করে টানা চার জয়ে ফাইনালে মঞ্চে পৌঁছে যায় লঙ্কানরা। অন্য দিকে শ্রীলঙ্কাার মতো গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে সুপার ফোরে উঠে পাকিস্তান। ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হারের পর হংকংয়ের বিপক্ষে ১৫৫ রানে জয় পেয়ে সুপার ফোরে উঠে পাকরা। সুপার ফোরে ভারতের কাছে হারের প্রতিশোধ নেয় পাকিস্তান। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ভারতকে ৫ উইকেটে হারায় বাবর আজমের দল। আর পরের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১ উইকেটে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। আফগানদের বিপক্ষে শেষ ওভারের ১ উইকেট হাতে নিয়ে ১১ রানের প্রয়োজন দুই ছক্কায় মিটিয়েছেন ১০ নম্বরে নামা নাসিম শাহ। বোলার নাসিমের দুই ছক্কায় ফাইনালে টিকিট পায় পাকিস্তান।

পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর বলেন, ‘গত ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে আমরা ভালো খেলেছিলাম। তার পর ব্যাটিং ভালো হয়নি। আমরা জুটি বাঁধতে পারলাম না। খারাপ শট খেলে আউট হয়েছে সবাই। ফাইনালের আগে এ ধরনের ব্যাটিং দেখে চিন্তা হচ্ছে। বোলাররা নিজেদের কাজ করেছে। হাসান দলে ফিরেছে। ব্যাটারদের কোথায় ভুল হচ্ছে তা আলোচনা করতে হবে। আশা করি ফাইনালে সবাই নিজেদের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করবে। ফাইনালে জয়ের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’ অন্য দিকে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শ্রীলঙ্কাও। অধিনায়ক দাসুন শানাকা বলেন, ‘ফাইনালের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পেয়েছি। এই জয় বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে। তবে ফাইনাল নিয়ে আমরা অনেক বেশি সতর্ক। পাকিস্তান শক্তিশালী দল। ফাইনালে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া থাকবে পাকিস্তান। তাই পাকিস্তানকে আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। আমরাও ছাড় দেবো না। ফাইনাল জিততে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবো।’ এবারের এশিয়া কাপ হওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতে। কিন্তু গত এপ্রিলে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির কারণে শেষমেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরিয়ে নেয়া হয় এশিয়া কাপের আসর। এশিয়া কাপের শিরোপা জিতে দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটাতে চান শানাকা। ‘গত এপ্রিল থেকে ভয়ঙ্কর সময় পার করছে দেশবাসী। চরম খারাপ অবস্থার কারণে জীবন যুদ্ধ করতে হচ্ছে তাদের। তবে একমাত্র দেশের খেলাধুলার মাধ্যমেই তাদের মুখে সামান্য হাসি ফোটে। এবারের এশিয়া কাপে আমাদের জয়গুলো তাদের আনন্দ দিয়েছে। তাই ফাইনাল জিতে শিরোপা উপহার দিয়ে দেশবাসীকে কিছুটা হলেও আনন্দ দিতে চাই।’ বল হাতে শ্রীলঙ্কার বড় শক্তি স্পিন। স্পিন দিয়ে গত ম্যাচে পাকিস্তানকে ঘায়েল করেছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত হাসারাঙ্গা ডি সিলভা ৬টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। হাসারাঙ্গার সাথে মহেশ থিকশানার বোলিংও প্রতিপক্ষের মাথাব্যথার কারণ। ৫ ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। স্পিনারদের সাথে শ্রীলঙ্কার পেসাররাও দারুণ পারফর্ম করে চলেছেন। এ আসরেই অভিষেক হওয়া পেসার দিলশান মুধশাঙ্কা সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নিয়েছেন। ব্যাট হাতে পাকিস্তানকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২৬ রান করেছেন তিনি। তবে অধিনায়ক বাবরের অফ-ফর্ম চিন্তায় রাখছে পাকিস্তানকে। ৫ ইনিংসে মাত্র ৬৩ রান করেছেন তিনি। মিডল অর্ডারে ফখর জামান, ইফতেখার ও শাদাব দলের প্রয়োজনে ছোট ছোট ইনিংস খেলে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারেন। বোলিংয়ে দারুণ ফর্মে আছেন পাকিস্তানের নাওয়াজ, শাদাব ও নাসিম শাহ। নাওয়াজ ৮ ও শাদাব ৭টি উইকেট নেন। এ আসরে অভিষেক হওয়া নাসিম নিয়েছেন ৬ উইকেট।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।