আটক শ্বশুর-শাশুড়ি-সতিন জেলহাজতে

316

দামুড়হুদা জুড়ানপুরের গৃহবধূ আরজিনার দাফন সম্পন্ন
দামুড়হুদা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ি শনিবার গভীর রাতে হত্যা হওয়া গৃহবধু আরজিনা বেগমের (৪০) লাশ রোববার রাতে তার পিতার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলা হাসলা গ্রামে দাফন করা হয়েছে। মাকে হারিয়ে একমাত্র ছেলে ১০ শ্রেণীর ছাত্র ইমন আলী পাগলের মত বিলাপ করছে। অপরদিকে, এই হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ৪ আসামীর মধ্যে ৩ জনকে পুলিশ রোববার গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো, নিহত গৃহবধুর শ্বশুর সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, শ্বাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন ও সতিন মনোয়ারা বেগম। অপর আসামী গৃহবধুকে হত্যার পর কৌশলে সটকে পড়া স্বামী হাসাদুলকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।
দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ গতকাল সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত ৩ জন শ্বশুর আব্দুল খালেক, শ্বাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন ও সতিন মনোয়ারা বেগমকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। আসামীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যা সম্পর্কে কোন তথ্য দিয়েছে কিনা তা জানার জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গফুরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা কোন তথ্য দেয়নি। উল্টাপাল্টা কথা বার্তা বলেছে। তাদেরকে রিমান্ডে এনে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিনা জানতে চাইলে এই তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন যেহেতু এটা হত্যা মামলা, তাই মামলার তদন্তের স^ার্থে এবিষয়ে এখন কিছু বলা সম্ভব হচ্ছেনা।
উল্লেখ্য, শনিবার গভীর রাতে গৃহবধূকে আরজিনা বেগমকে (৪০) শ্বাসরোধ করে হত্যার করে বাড়ির পাশে একটি কুল গাছে ঝুলিয়ে রেখে গৃহবধু আতœহত্যা করেছে বলে বাড়ির লোকজন প্রচার করে। কিন্তু নিহতের ছেলে ইমন আলী (১৬) অভিযোগ করেন তার মাকে পরিকল্পিত ভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০ টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ময়না তদন্ত শেষ হলে কুষ্টিয়ার হালসা থেকে আসা নিহত গৃহবধুর পিতার বাড়ির লোকজন তাকে হালসায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মওলা বক্স বাদী হয়ে স্বামীসহ ৪ জনের দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রোববার পুলিশ এজাহার নামিয় ৩ জন আসামী নিহত গৃহবধুর শ্বশুর সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, শ্বাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন ও সতিন মনোয়ারা বেগমকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জুড়ানপুর গ্রামের হাসাদুলের সাথে প্রায় ২৫ বছর আগে কুষ্টিয়ার সাকধারচর গ্রামের বিল্লাল মন্ডলের মেয়ে আরজিনা খাতুনের বিয়ে হয়। পরে হাসাদুল যশোরে মনোয়ারা খাতুন নামের এক মহিলার সাথে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এরপর থেকে সংসারে শুরু হয় অশান্তি। হাসাদুল দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যশোরে বসবাস করছিল। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে হাসাদুল গত মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারী) গ্রামের বাড়িতে আসলে এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী আরজিনা বেগমের সাথে বিবাদ সৃষ্টি হয়। এরই এক পর্যায়ে শনিবার দিনগত গভীর রাতে গৃহবধু আরজিনা খাতুনের লাশ বাড়ির পাশে একটি কুলগাছে ঝুলতে দেখা যায়। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত নিহত গৃহবধু আরজিনার শ্বশুর সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, শ্বাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন ও সতিন মনোয়ারা বেগমকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই মামলার একমাত্র পলাতক আসামী নিহতের স্বামী হাসাদুলকে গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান চলছে।