আজ থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

695

চুয়াডাঙ্গায় ১৫ হাজার ১৯০ জনসহ অংশ নেবে দেশের ২০ লাখেরও বেশী শিক্ষার্থী
ডেস্ক রিপোর্ট: চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ সারাদেশে আজ থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সুষ্ঠুভাবে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০লাখ ৩১হাজার ৮৮৯জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। এরমধ্যে ১০লাখ ২৩হাজার ২১২জন ছাত্র ও ১০লাখ ৮হাজার ৬৮৭জন ছাত্রী রয়েছে। ৩হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতবছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৭লাখ ৮৬হাজার ৬’শ ১৩জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। গতবছরের চেয়ে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ২৮৬ জন।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সারাদেশের ন্যায় একযোগে চুয়াডাঙ্গায়ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এসএসসি, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও স্বতস্ফুর্ত ভাবে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এবছর জেলার ২৮টি কেন্দ্রে মোট ১৫হাজার ১৯০ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করবে। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় ১৩ হাজার ৩০৬ জন, দাখিল পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬৪ জন ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় ৮২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিবে। নকলমুক্ত সুষ্ঠু সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ এসএসসি (সাধারণ) বাংলা ১ম পত্র, এসএসসি (ভোকেশনাল) বাংলা-২ এবং দাখিল কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষা পূরবর্তী এক প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, পরীক্ষার সময় কেন্দ্রে পুলিশ ও ম্যাজিষ্ট্রেট উপস্থিত থাকবে; তবে তারা পরীক্ষা কক্ষে (হলে) প্রবেশ করবে না। প্রয়োজনে অসাধু পন্থা অলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে সকাল ৮টার মধ্যে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিত থাকতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অনিয়ময় প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কেউ ব্যর্থ হলে আমাদের জানাবেন আমরা সহযোগিতা করবো। যে সব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পূর্বে অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে হবে। বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের ওই পরীক্ষার দিন দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। এজন্য সকলকে নাম ও পদবী উল্লিখিত চেস কার্ড ব্যবহার করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, পরীক্ষার্থীরা যাতে মনোরম পরিবেশে বসে পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে কেন্দ্র এলাকা ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে সুষ্ঠ ও নকল মুক্ত পরিবেশে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীতিমালা মেনে কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ করার জন্য সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দ্র সচিবদের অনুরোধ জানানো হয়। নকল করার অবৈধ পন্থা অবলম্বনের কারণে এই জেলার ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কর্যক্রম কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
বিগত বছরের কার্যবিবরণী পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জসীম উদ্দীন। এসময় বিভিন্ন উপজেলা পরিক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও শিক্ষকগণ তাদের মত প্রকাশ করেন।
সকলের মতামতের ভিত্তিতে এসময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সিদ্ধান্ত সমূহের মধ্যে রয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষামন্ত্রনালয় এবং শিক্ষা বোর্ডের নিদের্শনা অনুসারে কেন্দ্র সচিব সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শক্রমে কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ করবে। পরীক্ষার পূর্বে প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দ্র সচিব পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করবে। পরীক্ষা পরিচালনা বিষয়ে কক্ষ পরিদর্শকের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করবে। কেন্দ্র সচিবগণ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরিদর্শকদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করতে হবে। তাদের পরীক্ষা নিতিমালা ও কার্যবিবরণী সীদ্ধান্ত সমুহ পাঠ করে শুনিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।
কেন্দ্র সচিব পরীক্ষার্থীদের সিটপ্লান নির্ণয় করবে। পরীক্ষায় ৬ ফুট বেঞ্চে ২ জন, ৬ ফুটের নিচের বেঞ্চে ১ জন করে পরীক্ষার্থী বসাতে হবে। বেঞ্চের সিটপ্লান জেড আকারে হতে হবে এবং ১ জন লোক যাতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেলা করতে পারে এমন দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো মতেই এক বেঞ্চে একই স্কুলের ২ শিক্ষার্থী বসতে পারবে না। কোন কেন্দ্র সচিব নকল প্রতিরোধ করতে ব্যার্থ হলে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরীক্ষার হলে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। শুধু মাত্র কেন্দ্র সচিব তার অফিস কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে।
পরিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় তাদের তল্লাশী করতে হবে। প্রয়োজনে ছাত্রীদের পৃথক কক্ষে নিয়ে মহিলা শিক্ষীকা দ্বারা দেহ তল্লাশী করতে হবে। শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদী ছাড়া অন্য কিছু সাথে নিতে পারবে না। পুলিশের পাহারা প্রশ্নপত্র কেন্দ্রগুলোতে পৌছাতে হবে। পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে কেন্দ্রগুলোতে বিদুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের কক্ষ পরিদর্শনের দায়িত্ব দেয়া যাবে না।
আত্মীয় আছে এমন শিক্ষককে কেন্দ্র পরিদর্শন থেকে বিরত রাখতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো শিক্ষক তথ্য গোপন রাখলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশে পাশে ফটোকপির দোকান খোলা রাখা যাবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যনেজিং কমিটি/গভনিং বর্ডির সদস্যরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না। পরীক্ষা চলাকালীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোলরুম সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হবে; এজন্য একটা মোবাইল নম্বরও চালু করা হয়েছে।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, সারা দেশের সাথে এক যোগে আজ থেকে দর্শনা মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সেন্টারে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ইতেমধ্যে পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন হয়েছে বলে মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন। এবছর দর্শনা মেমনগন ও দর্শনা বালিকা বিদ্যালয়ে দুইটি ভেন্যুতে ৭০৭জন নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ১৬৬জন ও অনিয়মিত ৭৭জন, দর্শনা বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৩৬জন নিয়মিত ও ১৪জন অনিয়মিত মোট ৯৯ জন, দর্শনা বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৮৬জন নিয়মিত ও ১৩জন অনিয়মিত মোট ৯৯জন পরীক্ষার্থী, দর্শনা দক্ষিন চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৯৯জন, কেরু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪৪জন ও মদনা হাই স্কুল থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিত সর্বমোট ৭০৭জন পরীক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে বলে মেমনগরের প্রধান শিক্ষক নাসীর উদ্দিন, কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ন কবির ও আল হেরার প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান জানান।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, জীবননগর উপজেলায় ৮টি কেন্দ্রে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। জীবননগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দ্বিনেশ চন্দ্র পাল জানান, এ বছর জীবননগর উপজেলায় ৮টি কেন্দ্রে এসএসসি, ভোকেশনাল ও দাখিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে হাসাদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৪৫জন, জীবননগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫৬১জন ও ভোকেশনালে ২১১জন, জীবননগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোকেশনালে ২১৯জন, মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৮৬জন, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৪৮ জন, আন্দুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৬৬জন এবং জীবননগর উপজেলা আলিম আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষায় ২৮৮জন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহন করবে। এ বছর উপজেলার ৮টি কেন্দ্রে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় ২হাজার ৩৩৬জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করবে।
মুজিবনগর অফিস জানিয়েছে, মেহেরপুরের মুজিবনগরে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৪’শ ৫৪জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মুজিবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব ইজারুল ইসলাম জানান, মূল কেন্দ্র মুজিবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উপকেন্দ্র মানিকনগর মাদরাসায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উভয় কেন্দ্রে ১৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত ১ হাজার ২’শ ৩৮জন এবং অনিয়মিত ২১৬জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। মূলকেন্দ্রে সহকারী কেন্দ্র সচিব আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম, হল সুপার এটিজে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ই¯্রাফিল হোসেন ও উপকেন্দ্র মাদরাসায় দারিয়াপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলাম, হলসুপার আ¤্রকানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন।