আগামী প্রজন্মকে দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ দিতে হবে

575

দামুড়হুদায় উপজেলা পর্যায়ে গণশুনানিতে দুদক কমিশনার (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কমিশনার (তদন্ত) এ.এফ.এম আমিনুল ইসলাম বলেছেন, দেশজুড়ে ৬৭টি স্থানে গণশুনানি চলছে। এর মাধ্যমে দেশ থেকে ৭২ শতাংশ দুর্নীতি কমানো হয়েছে। আমরা, প্রতিরোধ ও প্রতিকার দু’টি ধাপে দুর্ণীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। প্রতিরোধ হলো- দুর্নীতি ধরা পড়ার সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেওয়া; আর কেউ দুর্নীতির শিকার হলে তা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যম হলো প্রতিকার। তবে আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ নেব না। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ নেব। পরে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তদন্ত পূর্বক আদালত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করবে। এভাবে ভবিষ্যতে সব অভিযোগের শতভাগ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘টি.আই.বি’র রিপোর্ট অনুযায়ী একটা সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে প্রথম সারিতে থাকতো। সেই স্থান থেকে আজ অনেকটা উন্নতির দিকে। আগামী প্রজন্মকে দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ দিতে হবে। এর জন্য বাংলাদেশের শতভাগ মানুষকে দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমের মধ্যে আনতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশে গড়তে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ মানুষ সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সকলের মধ্যে দেশাত্মবোধ থাকতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন এখনও সময় আছে এ ধরণের অপকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিন। আর বেশি দেরি নেই সেদিন আর পালানোর পথ থাকবে না।’
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে আয়োজিত গণশুনানি অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান। এ ছাড়াও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (প্রতিরোধ) মনিরুজ্জামান, খুলনা বিভাগের উপপরিচালক ড. আবুল হাসান, দুদক কমিশনারের একান্ত সচিব নুরুজ্জামান, দুদকের সমন্বিত কুষ্টিয়া অঞ্চলের সমন্বয়কারী আব্দুল গাফফার, অতিরিক্ত প্রশাসক (রাজস্ব) জসীম উদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কলিমুল্লাহ, দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওঃ আজিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
অতিথিদের বক্তব্য প্রদানের পর বেলা সাড়ে ১১টা নাগাত গণশুনানি শুরু হয়; চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। এ সময় ‘সবাই মিলে গড়বো দেশ-দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে একত্রিত হয়ে দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও দুর্নীতির শিকার সরকারি দপ্তরের গ্রাহকেরা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উত্থাপন করেন। কর্মকর্তারা তাদের প্রশ্নের জবাব দেন এবং সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করেন। এদিন সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪৮টিরও বেশি অভিযোগ জমা পড়ে দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে। এরমধ্যে সব থেকে বেশি দামুড়হুদা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, বনবিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের বিরুদ্ধে নানা ঘুষ ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়।
তোপের মুখে দামুড়হুদা সাবরেজিস্টার: গণশুনানিতে নানা অনিয়মের অভিযোগে সেবাগ্রহীতা ও দুদক কমিশনারের তোপের মুখে পড়েন সাবরেজিস্টার নিতেন্দ্র লাল দাস। যোগদানের পর থেকে তিনি অতিরিক্ত টাকা ছাড়া জমি রেজিস্ট্রি করেন না- এটি তার বিরুদ্ধে ছিল মামুলি অভিযোগ। তার নামে এর থেকেও বিষদ অভিযোগ যে তিনি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে খাস জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে মালিকানা করে দেন। ইতিপূর্বে তার নামে পত্র/পত্রিকায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও তার অভিযোগগুলো জন সম্মুখে তুলে ধরা হলে দুদক কমিশনার জবাব চান। উপজেলা সাবরেজিস্টারের খাপ-ছাড়া জবাবে গণশুনানিস্থল সরগরম হয়ে ওঠে।
এ সময় স্থানীয় এক বিদ্যুৎ গ্রাহকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির কর্মকর্তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন দুদক কমিশনার। এ ছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকি সালামকে শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল হতে আনীত অভিযোগ নিস্পত্তি করে স্বচ্ছতা আনার জন্য এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা নাফিস সুলতানাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।