আখেরাতের চূড়ান্ত পরীক্ষা

348

ধর্ম ডেস্ক: ‘পুল’ ফারসি শব্দ। এর অর্থ সেতু। ‘সিরাত’ আরবি শব্দ। এর অর্থ রাস্তা, পথ। তবে ইসলামী পরিভাষায় এর অর্থ পারলৌকিক সেতু বা পুল। এ দুটি শব্দকে একত্রিত করে ‘পুলসিরাত’ বলা হয়ে থাকে। পুলসিরাত পার না হয়ে হাশরের ময়দান থেকে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। কেয়ামত হওয়ার পর সব মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করে হাশরের ময়দানে সমবেত করা হবে এবং ইহলৌকিক জীবনের বিচার করা হবে। এই বিচারের পর হাশরের মাঠ থেকে পুলসিরাত পার হয়ে জান্নাতের দিকে যেতে হবে। এ সুদীর্ঘ পুল পার হতে পৃথিবীর হিসাবে ৩০ হাজার বছরের প্রয়োজন (গুনিয়াতুত তালেবীন)। হাশরের ময়দানে জান্নাত ও জাহান্নাম এনে হাজির করা হবে। জান্নাত রাখা হবে উঁচু স্থানে আর জাহান্নাম গভীর নি¤েœ। জাহান্নামের উপরে স্থাপন করা হবে পুলসিরাত। এর শেষ প্রান্তে থাকবে জান্নাত। এটি হাশরের ময়দান থেকে জান্নাত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে এবং অনেক ভয়ঙ্কর হবে। এটি হবে চুলের চেয়ে চিকন ও তরবারির চেয়েও ধারালো। অন্ধকারাচ্ছন্ন এই ভয়াবহ পথ প্রতিটি মানুষকে অতিক্রম করতে হবে। কারণ সেটাই হবে বেহেশতে পৌঁছানোর একমাত্র পথ। আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, তাকে এটা পার হতে হবে না। এটা তোমার প্রতিপালকের অবধারিত ফয়সালা। তারপর আমি ধর্মভীরুদের নিস্তার দেব এবং অত্যাচারীদের অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব (সূরা মারিয়াম: ৭১-৭২)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-সেদিন কেউ বিদ্যুতের গতিতে, কেউ বাতাসের গতিতে, কেউ ঘোড়ার গতিতে, কেউ আরোহীর গতিতে, কেউ দৌড়িয়ে আবার কেউ হাঁটার গতিতে (পুলসিরাত) অতিক্রম করবে (তিরমিজি, দারেমি)। পুলসিরাত সর্বপ্রথম অতিক্রম করবেন প্রিয় রাসুল হজরত মুহম্মদ (সা.) ও তাঁর উম্মত। কেবল মুমিনরাই পুলসিরাত অতিক্রম করতে পারবে। তাদের ইমান ও আমল অনুপাতে নূর প্রদান করা হবে। এর ভিত্তিতে তারা পুলসিরাত অতিক্রম করবে। বিশিষ্ট সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বপ্নের বর্ণনা সংবলিত হাদিসে বলেছেন এবং জাহান্নামের ওপর পুলসিরাত স্থাপন করা হবে, আমি ও আমার উম্মত সর্বপ্রথম তা অতিক্রম করব। সেদিন রাসুলগণ ছাড়া কেউ কথা বলবে না, রাসুলদের দোয়া হবে-হে আল্লাহ, শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন (বুখারি: ৮০৬ ও মুসলিম: ১৮২)।