চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৯ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আওয়ামী লীগের অধীনে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিলে দলের মহাসচিব
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ২৯, ২০২২ ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় সদর উপজেলার ডাকবাংলা আব্দুর রউফ কলেজ মাঠে এ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. এস এম মশিয়ূর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাড. এমএ মজিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও সম্মেলন চলাকালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন দেশনায়ক তারেক রহমান লন্ডন থেকে বেলা সাড়ে ১২টায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।

প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়াও হবে না। এই ভোট ডাকাত ও মাফিয়া সরকারকে হটিয়ে নিরপেক্ষ সরকার কায়েম করা হবে। আর নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গঠিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল ঘরে ঘরে চাকরি দিবে, বিনা পয়সায় সার দিবে, আর দশ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। টাকা ছাড়া ঘরে ঘরে কেউ চাকরি পায়নি। তাও আওয়ামী লীগ না করলে কারো চাকরি হয়নি। দেশের মানুষ সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে এখন চাল কিনে খাচ্ছে। কোনো কৃষক সারও বিনা পয়সায় পায়নি। এ সরকার প্রতারণা ও ভাওতাবাজীর সরকার।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এ দেশে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করেছে। তাই সীমাহীন লুটপাট ও চুরির কারণে তারা মাথা নিচু করে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকারের চোরদের তাই মাথা নিচু করেই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। তারপরও তাদের রেহাই নেই। ভোট ডাকাতি, গণতন্ত্র হত্যা, বিপন্ন মানবাধিকার, মানুষ হত্যা, খুন ও গুমের কারণে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘চরম দুঃশাসনে দেশবাসী যখন দিশেহারা তখন আলোকবর্তিকা হয়ে আমাদের মাঝে মুক্তির ঝান্ডা নিয়ে এসেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে সত্যিকার জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার কায়েম করা হবে।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘এ সরকার নির্বাচিত সরকার নয়। এরা আধিপত্যবাদ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। ভোট ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলন নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগরে অস্ত্রধারী গুন্ডারা ছাত্রদলের ছেলেদের উপর ঝাপিয়ে পড়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি, তারা নারীদের নির্যাতন করেছে। অনেক নারী আইসিউতে চিকিৎসাধীন। তাদের উপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ তাদের ফ্যাসিস্ট রূপ আবারও প্রকাশ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও পুলিশকে কাজে লাগিয়ে এই ভোট ডাকাতির সরকার খুলনা ও পটুয়াখালীতে বিএনপির উপর হামলা করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব আগত নেতাকর্মী ও ডেটিগেটদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আর পারবে না। এবার জনগণ জেগে উঠেছে। জনতার উত্তাল ক্ষোভ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মী ও দেশের মানুষ এখন উজ্জীবিত।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের যে মুক্তির পতাকা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উত্তোলন করেছিলেন, তা এখন তারেক রহমানের হাতে।’

জেলা বিএনপির আহবায়ক এড এসএম মশিয়ূর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাড. এমএ মজিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মসিউর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খাঁন শিমুল, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির জেলা যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মালেক, জেলা যুগ্ম আহবায়ক আক্তারুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য আব্দুল ওহাব, নির্বাহী সদস্য মীর রবিউল ইসলাম লাবলু, সদর উপজেলা সভাপতি অ্যাড. মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, মহেশপুর পৌর সভাপতি আমিরুল ইসলাম চন্নু, মহেশপুর উপজেলা সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, শৈলকূপা পৌর সভাপতি আবু তালেব, উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেন, কোটচাঁদপুর পৌর সভাপতি সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল, উপজেলা সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, হরিণাকুণ্ডু পৌর সভাপতি জিন্নাতুল হক খাঁন ও উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেন মাস্টার প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, কাউন্সিলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন দেশনায়ক তারেক রহমান ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকাবস্থায় পুলিশের গুলিতে নিহত মহেশপুর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী ইন্তাজুলের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন, নিহত পলাশের পিতা আরাপপুরের গোলাম মোস্তফা ও শহরের কলাবাগান পাড়ার যুবদল নেতা মির্জার মা তারেক রহমানের দেওয়া আর্থিক সহায়তা গ্রহন করেন।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।