চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২০ জানুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি শুরু ২১ ফেব্রুয়ারি

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ২০, ২০২২ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার বিচারের শুনানি আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শুরু হচ্ছে। চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আইসিজের এখতিয়ারসহ অন্যান্য ইস্যুতে মিয়ানমারের তোলা অভিযোগের ওপর এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বুধবার আইসিজের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, করোনা মহামারীর কারণে শুনানিটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ কিছু বিচারক আদালতে সশরীরে এবং বাকিরা ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে সংযুক্ত হবেন। মামলার পক্ষভুক্ত প্রতিনিধিরা একই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। শিডিউল অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার প্রথম রাউন্ডে মৌখিক যুক্তিতর্ক উত্থাপন করবে। ২৩ ফেব্রুয়ারি গাম্বিয়া প্রথম রাউন্ডে মৌখিক যুক্তিতর্ক উত্থাপন করবে। এরপর মিয়ানমার ও গাম্বিয়া যথাক্রমে ২৫ ফেব্রুয়ারি ও ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় রাউন্ডে যুক্তিতর্ক উত্থাপন করবে। কূটনীতিক, গণমাধ্যম ও জনগণ আদালতের ওয়েবসাইট ও জাতিসঙ্ঘের অনলাইন টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে যুক্তিতর্ক সরাসরি দেখতে পাবেন।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে গাম্বিয়া জাতিসঙ্ঘের গণহত্যার সনদ ভঙ্গের অভিযোগে গত ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলা করে। গাম্বিয়ার অভিযোগ, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে, যার প্রক্রিয়া আজো অব্যাহত রয়েছে। এবারের শুনানিতে মূলত মিয়নামারে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের এখতিয়ার আইসিজের রয়েছে কিনা তার সুরাহা হবে। পরবর্তী শুনানিতে গণহত্যার অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

আইসিজে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আইসিজের রায় বা নির্দেশনা বাস্তবায়ন সনদ স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক। গাম্বিয়া ও মিয়ানমার উভয়েই এই সনদ সই করেছে। আইসিজের চূড়ান্ত রায়ের পর আপিলের কোনো সুযোগ নেই। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রাথমিক শুনানির পর আইসিজে পরবর্তী মাসে অন্তর্র্বতী পদক্ষেপের আদেশ দেন। এতে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-নির্যাতন বন্ধ, তাদের বাস্তুচ্যুতিরোধ এবং গণহত্যার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আলামতগুলো সংরক্ষণ করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়। এই আদেশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা চার মাসের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। এরপর অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারকে ছয় মাস অন্তর প্রতিবেদন দিতে হবে। একই সাথে গাম্বিয়াকে এ সব প্রতিবেদন সরবরাহ করতে হবে- যাতে দেশটি তাদের মতামত দিতে পারে। তবে এ সব প্রতিবেদন বা মতামত জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।