চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১০ জুলাই ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আইসিইউ স্থাপনের কাজ দ্রুতই শুরু হবে : ডিসি নজরুল ইসলাম

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ১০, ২০২১ ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

চুয়াডাঙ্গায় কোভিড-১৯ চিকিৎসা সংকট ও করণীয় শীর্ষক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় আইসিইউ স্থাপনের কাজ দ্রুতই শুরু হবে। সাজেদা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান এর দায়িত্ব পেয়েছে। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি টিম হাসপাতাল পরিদর্শনও করে গেছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের সাথে কথা বলে, ফান্ড নিয়ে তাঁরা কাজ শুরু করবেন। চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোভিড-১৯ চিকিৎসা সংকট ও করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। চুয়াডাঙ্গা সাংস্কৃতিক মঞ্চের আয়োজনে গতকাল শুক্রবার রাত আটটায় জুম ক্লাউড অ্যাপের মাধ্যমে ভার্চুয়াল এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের পেজে সরাসরি লাইভ দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বর্তমানের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকাটা স্বাভাবিক। আপনারা এই জেলা এবং জেলার মানুষ নিয়ে ভাবেন। সেজন্য কাজ করছেন। সেটা আমি জানি। সকলে মিলে আমরা করোনার এই প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্ত হবো।
ফিল্ড হাসপাতালের বিষয়ে কথা উঠলে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, আমাদের মুখ্য সচিব স্যারসহ প্রশাসন এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের সাথে একটি ভার্চুয়াল মিটিং হয়েছে কয়েকদিন আগে। ওখানে ফিল্ড হাসপাতালের বিষয়টি উঠেছিলো। এটা নির্ধারিত কিছু সিটির জন্য রাখা হয়েছে। আসলে আপনারা সবাই জানেন, এটার সাথে কি কি রিলেটেড, সেই সকল বিষয়ের কথা চিন্তা করেই ফিল্ড হাসপাতাল করতে হবে।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি নিয়ে তিনি বলেন, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটিও করা হয়েছে। শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার সচেতন মানুষকে এই কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। যাঁরা কাজ করছেন।
হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে আটটি হাই ফ্লো নেজাল ক্যানুলা আছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সিলিন্ডারও আছে। কিন্তু অভাব হচ্ছে সঠিক ব্যবস্থাপনার। যার কারণে আমরা সঠিকভাবে সেবা দিতে পারছি না। জেলার চারটা হাসপাতালে ডাক্তার আছে মাত্র ৫৯ জন। সাধারণ যে চিকিৎসা, সেটা চালু রেখেই আমাদের কোভিডের কথা ভাবতে হচ্ছে। কোভিডের জন্য ১০ জনকে ডেডিকেটেট করা হয়েছে। তাঁদের আবার রুটিন ডিউটি করতে হচ্ছে। নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়।
মতবিনিময় সভায় চুয়াডাঙ্গাতে আইসিইউ বিষয়ে কথা উঠলে তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় আইসিইউ-এর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি। স্বাস্থ্য সচিব স্যারের সাথে একাধিকবার কথা হয়েছে। খাদ্য সচিব স্যার ডিও লেটার দিয়েছেন। পাঁচ ছয়বার চিঠি লেখার পর আমাদের আইসিইউ স্যাংশন হয়ে গেছে। সাজেদা ফাউন্ডেশন নামক একটা ফাউন্ডেশনকে দায়িত্ব দিয়েছে। গত পরশুদিন তাঁরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন। ছয়টা বা আটটা আইসিইউ করবে। এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁরা সরকারের সাথে কথা বলে ফান্ড নিয়ে কাজ শুরু করবেন। এখন যদি সঠিকভাবে আমরা ব্যবস্থাপনাটা করতে পারি। তাহলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।
জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। লকডাউন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন চুয়াডাঙ্গার সভাপতি ডা. মার্টিন হিরক চৌধুরী বলেন, যেকোনো একটি বিভাগ বা একটি দপ্তরের পক্ষে করোনাভাইরাসের এই অতিমারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। চিকিৎসকের সংকট সারা দেশেই। তবে সেই সমস্যা থেকেও উত্তরণ সম্ভব। ৩৯ তম বিসিএসের ৬ হাজার ডাক্তার সিলেক্টেড হয়ে নন ক্যাডারভাবে অপেক্ষা করছে। তাঁদের সরকার নিয়োগ দিলে ডাক্তার সংকট অনেকটাই কমে যাবে। কারণ, নিয়মিত ডিউটি করার জন্য ডাক্তার প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল আমিন বলেন, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে সমাজে যাদের কথা মানুষ শোনেন, তাঁদেরকে সচেতন করার দায়িত্ব নিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, এখন স্বাস্থ্য বিভাগের যে চিত্র আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে তা ভয়াবহ। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ সকলেই চেষ্টা করছেন এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের। একই ভবনে রেড জোন, ইয়েলো জোন, ভ্যাকসিনেশন, করোনা টেস্ট। এই জায়গা ডিসেন্টিলাইজেশন করা যায় কিনা সেটি দেখতে হবে। আমার আরেকটি পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, লকডাউন পাড়া-মহলা ও গ্রামাঞ্চলে একেবারেই হচ্ছে না। করোনা আক্রান্ত্রের বাড়িতে লকডাউন করলেই হবে না। সবার আর্থিক সামর্থ তো এক নয়। তাছাড়া, তাঁর বাজার এবং ওষুধ পৌছানোর জন্যও লোকবল প্রয়োজন। তাই লকডাউন করা পরিবারের খোঁজ রাখতে হবে। চিকিৎসকের অভাব আছে যথেষ্ট পরিমাণে। দক্ষ নার্স এবং স্বেচ্ছাসেবকেরও অভাব আছে। এই সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের একটি প্রস্তাব আপদকালীন সময়ে যাঁরা অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক বা যাঁরা প্রাইভেট করেন তাঁদের এখানে যুক্ত করা। আরেকটি হচ্ছে, মাস্ক এবং ভ্যাকসিনেশন শতভাগ নিশ্চিতের চেষ্টা করা।
মতবিনিময় সভায় অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সৈকতের সঞ্চালনায় বক্তব্য আরও দেন, অনিবার্ণ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সংলাপের সভাপতি নজির আহমেদ, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক হাবিবি জহির রায়হান, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, আলমডাঙ্গার সভাপতি হামিদুল আজম, আবৃত্তি পর্ষদ, চুয়াডাঙ্গার পরিচালক মনোয়ারা খুশি, আনন্দধাম, দর্শনার পরিচালক মিল্টন কুমার সাহা প্রমুখ।

Girl in a jacket

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।