আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অসন্তোষ প্রকাশ

63

গাংনীতে একের পর এক চুরির ঘটনা, পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
গাংনী অফিস:
ছোট্টা এলাকা নিয়ে গঠিত গাংনী পৌরসভা। এক সময়কার ত্রাসের এলাকা হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে আইনশৃঙ্খলায় শান্তির এলাকা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। তবে এর ছেদ পড়েছে গাংনী শহরে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি চুরির ঘটনা। পুলিশের এতো টহল আর সজাগ পাহারার মধ্যে চুরির ঘটনা যেমনি পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে, অপর দিকে চোর গ্রেপ্তার ও চুরির মালামাল উদ্ধার না হওয়াকে গাংনী থানা পুলিশের চরম দুর্বলতা বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এসব বিষয় গত বুধবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন হয়েছে। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা। অবশ্য এসব বিষয়ে কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রহমান। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চোর গ্রেপ্তার ও চুরির মালামাল উদ্ধার না হলে আরও বড় ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে আয়োজিত মাসিক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ। সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন কমিটির উপদেষ্টা ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ খালেক। আরও বক্তব্য দেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন, গাংনী প্রেসক্লাবের সভাপতি রমজান আলী, মনিরুজ্জামান আতু, মটমুড়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল আহম্মেদ, বামন্দী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, র‌্যাব ও বিজিবি প্রতিনিধিসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, গেল ২৭ ডিসেম্বর রাতে গাংনী ঈদগাহ পাড়ায় মালা খাতুনের দোকানে চুরি হয়। ১০ হাজার টাকার ওপরে মালামাল চুরির ঘটনায় পথে বসার উপক্রম এক সময়ের যাত্রাশিল্পী মালা খাতুনের। থানায় অভিযোগ করে বারবার পুলিশকে তাগাদা দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এদিকে, একই রাতে মালার দোকানের পাশে চৌধুরীর বাড়িতে চুরি হয়। আলমারি ও ওয়্যারড্রব ভেঙে নগদ টাকা ও সোনার গয়না চুরি করে নিয়ে যায় চোর। একই দিনে শিশিরপাড়া গ্রামের এক শিক্ষকের বাড়ির রান্নাঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও হাসপাতালের একটি কম্পিউটার ফটোস্ট্যাট দোকানে চুরিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মোবাইল চুরির ঘটনায় এলাকায় চুরি আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব চুরির ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, অপর দিকে চুরির মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় মানুষের মনে।