আইনগত সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে

46

চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির মাসিক সভায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান
সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির গত দুবছর ধরে কার্যক্রম বেগবান হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় আইনগত সহায়তা প্রদানে ৭ম হওয়ার খবর ইতিবাচক। সম্পূর্ণ নিখরচায় আইনগত সহায়তা প্রদানের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছ্বল পরিবারের সদস্যদের বিচার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদ্যালয়ের অ্যাসেম্বলিতে এবং মোবাইল ফোনের রিংটোনে লিগ্যাল এইড সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল রোববার বিকেল চারটায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সিনিয়র সহকারী জজ মো. শামসুজ্জামান। তিনি আইনগত সহায়তা প্রদানের বিষয়টি মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে প্রতি জুমার নামাজের পর প্রচার করার বিষয়টি ইসলামি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচার-প্রচারণার কাজ অব্যহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনেও লাগানো হয়েছে লিগ্যাল এইডের সাইনবোর্ড। তাতে লেখা হয়েছে বিনামূল্যে কীভাবে আইনগত সহায়তা পাওয়া যায়। এসব কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে সচেতনতা বেড়েছে, আইনগত সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যারা জেলহাজতে বন্দি রয়েছে, তাদের মধ্যে যাদের নিখরচায় আইনগত সহায়তা প্রয়োজন, তাদেরকেও সহায়তা নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যারা ভাতা পান, তাদের কার্ডেও লিগ্যাল এইড সম্পর্কে সচেতনতামূলক সিল মারা হচ্ছে। হাসপাতালের রোগীর টিকেটেও সিল মারার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত থেকে অভিমত ব্যক্ত করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট সাজিয়া আফরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. মো. আওলিয়ার রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ, পিপি অ্যাড. বেলাল হোসেন, জিপি (ভা:) অ্যাড. আশরাফুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালিম হোসেন, জেলা বিএমএ-এর সভাপতি ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী, জেলা কারাগারের জেলার শওকত হোসেন মিয়া, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা আফসানা ফেরদৌসী, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি সরদার আল আমিন, ওসিসি সদর হাসপাতালের প্রোগ্রাম অফিসার ইল্লিন সুতানা, ব্র্যাকের চুয়াডাঙ্গা সমন্বয়কারী ফারুক আহমেদ প্রমুখ।
সভার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা জেলা লিগ্যাল এইড’র কার্যক্রমকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাফল্যমণ্ডিত করার পুনরায় তাগিদ দেন। বলেন, বিনামূল্যে বিচার পাওয়া যায়, এটা জানাতে হবে। সরকারের দেওয়া এ সুবিধা জানাতে হলে প্রচার-প্রচারণায় জোর দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তাছাড়া নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেও এ কার্যক্রম বেগবান করা হয়েছে। নবনির্বাচত জনপ্রতিনিধিদেরও এ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে।
সভার সভাপতি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত সকলকে আরও আন্তরিকভাবে দায়িত্বপালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার চায় দেশের কোনো মানুষ ন্যায়বিচার থেকে যেন বঞ্চিত না হন। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল নারী-পুরুষ ভবঘুরে সকলেই এই সুবিধা নিতে পারেন। দরকার শুধু বিষয়টি তাদের জানানো। এ কমিটির সদস্যরা যত আন্তরিক হবেন, আইন সহায়তা গ্রহণে মানুষ ততোই এগিয়ে আসবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া নিপিড়িতদের সুবিচার নিশ্চিত করা সমাজের বিবেকবান সকলের দায়িত্বেরই অংশ।