চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৮ জুন ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এয়ারপ্লেন মোড : যা জানা প্রয়োজন

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ৮, ২০১৮ ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রযুক্তি ডেস্ক : যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের কুইক সেটিংসে আপনি ‘এয়ারপ্লেন মোড’ অপশন দেখতে পাবেন। কিন্তু এয়ারপ্লেন মোডের কাজটা আসলে কি? ফোনের এই ফিচারটির মাধ্যমে কিভাবে উপকৃত হবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক। অ্যান্ড্রয়েডের এয়ারপ্লেন মোড কি? এয়ারপ্লেন মোড হচ্ছে একটি সেটিংস যা প্রায় সকল স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং অনুরূপ ডিভাইসগুলোতে থাকে। আপনি যখন এটি অ্যাকটিভ করবেন তখন এয়ারপ্লেন মোড আপনার ফোনের সব ধরনের সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ রাখবে। এই মোড চালু থাকা অবস্থায় ফোনের স্ট্যাটাস বারে একটি বিমান আইকন দেখতে পাবেন। এই ফিচারটি এয়ারপ্লেন মোড হিসেবে পরিচিত হওয়ার কারণ হচ্ছে, অনেক বিমান সংস্থা তাদের বিমানে ওয়্যারলেস ডিভাইস নিষিদ্ধ করেছে। বিমানের রেডিও সরঞ্জামগুলোতে ফোন থেকে নির্গত তরঙ্গ কোনো প্রভাব ফেলতে পারে কিনা সেটা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। তবে বেশিরভাগই মনে করেন অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে বিমানে মোবাইল সিগন্যাল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এয়ারপ্লেন মোডের কাজ কী? এয়ারপ্লেন মোড আপনার ফোনের সব ধরনের ওয়্যারলেস ফাংশন নিষ্ক্রিয় রাখে। যার মধ্যে রয়েছে- * মোবাইল সংযোগ: আপনি কল করতে পারবেন না, টেক্সট মেসেজ পাঠাতে পারবেন না বা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন না। * ওয়াই-ফাই : আপনার ফোনো বিদ্যমান থাকা সব ধরনের ওয়াই-ফাই সংযোগগুলো নিষ্ক্রিয় হবে এবং কোনো নতুন ওয়াই-ফাই সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হবে না। * ব্লুটুথ : ব্লুটুথ হচ্ছে খুব সীমিত রেঞ্জের সংযোগ, যা আপনার ফোনকে স্পিকার, হেডফোন এবং আরো কিছুর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুবিধা দেয়। এয়ারপ্লেন মোড এটিকে নিষ্ক্রিয় রাখে। জিপিএস একটু ভিন্ন প্রকৃতির। এটি কোনো রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে না। আপনার ফোনের মডেলের ওপর নির্ভর করে এয়ারপ্লেন মোড জিপিএস বন্ধ রাখতে পারে কিংবা চালু রাখতে পারে। যদিও গুগল ম্যাপসের মতো অ্যাপসগুলো কোনো ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই কাজ করে, তবে লাইভ ট্র্যাফিকের মতো ফিচারগুলো এয়ারপ্লেন মোডে কাজ করবে না। এয়ারপ্লেন মোড ব্যাটারি সাশ্রয় করে? হ্যাঁ, এয়ারপ্লেন মোড স্পষ্টভাবে আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি লাইফ রক্ষায় সাহায্য করে। বিভিন্ন রেডিও তরঙ্গের কার্যক্রমে ফোনের অনেক শক্তির প্রয়োজন হয় যেমন ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপসের নোটিফিকেশন, ব্লুটুথ ডিভাইসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, লোকেশন চেক করা প্রভৃতি। এসব কাজ ফোনের ব্যাটারি শক্তি শেষ করে, এয়ারপ্লেন মোড একসঙ্গে সবকিছু নিস্ক্রিয় করে দেওয়ায় ফোনের ব্যাটারি শক্তি দারুন ভাবে সাশ্রয় হয়। যেহেতু এয়ারপ্লেন মোডে আপনার ফোন বেশি কাজে ব্যস্ত থাকে না তাই এই মোডে ফোন চার্জও হতে পারে দ্রুত। এয়ারপ্লেন মোডে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা যায়? উত্তরটা নির্ভর করে আপনার ডিভাইসের ওপর। তবে বেশিরভাগ আধুনিক ফোনগুলো ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধা দেয়, ফোন এয়ারপ্লেন মোডে থাকা সত্ত্বেও। আপনি যখন এয়ারপ্লেন মোড চালু করবেন তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াই-ফাই বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি ম্যানুয়ালি আবার ওয়াই-ফাই চালু করতে পারবেন। এয়ারপ্লেন মোড চালু থাকা অবস্থায় কুইক সেটিংস থেকে ওয়াই-ফাই অপশনে ক্লিক করুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অন হয়ে যাবে ওয়াই-ফাই এবং কানেক্ট হবে যদি আপনার ফোন অনুমতি দেয়।অনেক বিমানেই এখন ইন ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সেবা বিদ্যমান, সুতরাং আপনি এই ফিচারটি চালু করে উপভোগ করতে পারেন। নিশ্চিত না হয়ে থাকলে, ওয়াই-ফাই কানেক্ট করার আগে বিমানকর্মীর কাছ থেকে জেনে নিন। বিমানে শুধুমাত্র দশ হাজার ফুট ওপরে ওয়াই-ফাই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। তাই বিমান টেকঅফ এবং ল্যান্ডিংয়ের সময় ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকুন। এমনকি অবতরণের পরও।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।