অস্ত্র তুলে নিচ্ছে আফগানিস্তানের মানুষ

42

বিশ্ব প্রতিবেদন:
তালেবানদের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছে আফগানিস্তানের মানুষ। স্থানীয় দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা পুরোনো অ্যাসল্ট রাইফেল, পিস্তল ও গ্রেনেড লাঞ্চার নিয়ে গড়ে তুলেছেন পাবলিক আপরাইজিং ফোর্স। দেশটির প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র আজমল ওমর শিনওয়ারি এ তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তালেবান বিরোধী এই অবস্থানকে স্বাগত জানানো হলেও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এর সমালোচনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, এভাবে বিভিন্ন গ্রুপ বা গোষ্ঠী হাতে অস্ত্র তুলে নিলে দেশ আবার গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে চলে যাবে। পাবলিক আপরাইজিং ফোর্সের অন্যতম নেতা ৫৫ বছরের দোস্ত মোহাম্মদ সালাঙ্গি বলেছেন, ‘তারা যদি আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, আমাদের নিপীড়ন করে এবং নারী ও জনগণের সম্পত্তি দখল করে তাহলে আমাদের সাত বছরের ছেলেটিও অস্ত্র তুলে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।’ তালেবানদের সঙ্গে সরকারের যে রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা ছিল তাতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে শান্তি আলোচনার জন্য গঠিত কাউন্সিল জানিয়েছে, তালেবানের হামলা বাড়লেও রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা থেকে সরকারের সরে আসা উচিত নয়। গত এপ্রিলে আফগানিস্তানে অবস্থানরত প্রায় ১০ হাজার বিদেশি সেনাকে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ন্যাটো। এই ঘোষণার আগে থেকেই তালেবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের দখল নিতে শুরু করে। দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের ৩৭০ জেলার মধ্যে ৫০টিরও বেশি তালেবানের দখলে চলে গেছে। তারা এখন রাজধানী কাবুল দখলের চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে কাবুলকে সহায়তার সমর্থন চেয়েছিলেন। তবে বাইডেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আফগানদেরকেই তাদের ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারণ করতে হবে।