চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৬ অক্টোবর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অশ্লীলতা ছড়িয়ে ১০৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো বিগো

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
অক্টোবর ৬, ২০২২ ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চীনভিত্তিক ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ বিগো টেকনোলজি লিমিটেড। বিগো বাংলা লিমিটেড নামে বাংলাদেশেও এ অ্যাপটি কার্যক্রম শুরু করে। সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মূলত লাইভ চ্যাট ও ভিডিও চ্যাটভিত্তিক কার্যক্রম চালায় বিগো। অশ্লীলতা ছড়িয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দেড় বছরে প্রতারণার মাধ্যমে ১০৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরমধ্যে ৭৯ কোটি টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছে বিগো। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা একটি মামলার তদন্তে নেমে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ পায় সিআইডি। এরপর বিগো টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চীনা নাগরিক ইয়াও জিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা করেছে সিআইডি। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিগো বাংলা লিমিটেড, বিগো বাংলার কর্মী এসএম নাজমুল হক, আরিফ হোসেন, মুনসুন হোল্ডিং নামের প্রতিষ্ঠান। সিআইডি’র করা দ্বিতীয় মামলায় চীনা নাগরিক ও বিগোর এমডি ইয়াও জির বিরুদ্ধে ৭৯ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। সিআইডি বলছে, পাচারের উদ্দেশ্যে এ অর্থ সংগ্রহে বিগো টেকনোলজিকে সহযোগিতা করেছে মুনসুন হোল্ডিং লিমিটেড। মূলত মুনসুন হোল্ডিংয়ের নামে নেয়া পেমেন্ট গেটওয়ে ‘সূর্য প্লে’ সাহায্য নিয়ে বিপুল এ অর্থ আত্মসাৎ করে বিগো টেকনোলজি। সূত্রমতে, বিগো অ্যাপে লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগে গত বছরের জুনে চীনা নাগরিক ইয়াও জিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। ওই মামলার অন্য চার আসামি হলেন- বিগো বাংলার কর্মী মোস্তফা সাইফ রেজা, আরিফ হোসেন, এসএম নাজমুল হক ও আসমা-উল-হুসনা সেঁজুতী। তারা সবাই এখন কারাগারে। সিআইডি জানায়, সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দিলেও বিগো লাইভ মূলত লাইভ চ্যাট ও ভিডিও চ্যাটভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। কিছুদিন পরই প্রতিষ্ঠানটি ভার্চ্যুয়াল ডায়মন্ড ও বিনস বিক্রির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অর্থ হাতিয়ে নিতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় বিগো ও লাইকির অ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ। এক্ষেত্রে এমএফএস, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পর সবশেষে সূর্য প্লে নামের পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস ব্যবহার করা হয়। সব মিলিয়ে দেড় বছরে তারা হাতিয়ে নেয় ১০৮ কোটি টাকা। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল ডায়মন্ড ও বিনস বিক্রির বিপরীতে অ্যাপটির বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে এক কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৮০৬ টাকা আয় করে বিগো লাইভ টেকনোলজি। এ অর্থ জমা হয় একটি বেসরকারি ব্যাংকের গাজীপুর শাখার হিসাব নম্বরে, যা বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। ওই ব্যাংক হিসাবে স্থিতি রয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৭০ টাকা। বাকি এক কোটি ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৬ টাকা বিনস রিসেলার নাজমুল হক দেন চীনা নাগরিক ইয়াও জিকে। একই সময়ের মধ্যে আরও দু’টি বেসরকারি ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে বিগো বাংলা লিমিটেড ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ৭৬ টাকা সংগ্রহ করে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।