চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অল্প সময়ে স্বল্প পুঁজিতে লাভ হওয়ায় ঝুঁকছেন চাষীরা

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ১, ২০২১ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আনার ফল
মিঠুন মাহমুদ:
জীবননগরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে পুষ্টিকর ফল আনার। অল্প সময়ে স্বল্প পুঁজিতে এ চাষে লাভবান হওয়ায় তরুণ যুবকরা এ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের রুহুল কুদ্দুস মোল্লার ছেলে তরুণ উদ্যোক্তা সাদ্দাম হোসেন এ বছর আনার ফল চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছের। প্রতিটা গাছে ৮-১০ কেজি হারে ফল ধরেছে। মাঠজুড়ে রক্ত জবার মতো লাল হয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডাল। এ যেন লাল-সবুজের সমাহার। মাঠের দিকে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যাবে।
তরুণ উদ্যোক্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ৮ মাস আগে বন্ধুর মাধ্যমে ভারত থেকে ২৪০টি আনার ফলের চারা ক্রয় করে নিজের পরিত্যাক্ত দুই বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন তিনি। শুরুটা এলাকার মানুষের কাছে হাস্যকর হলেও সফলতা তাঁকে জিতিয়ে দিয়েছেন। নিজের আয়ের পাশাপাশি এলাকার বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের ও ব্যবস্থা করেছেন তিনি। চারা ক্রয় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছে বিঘা প্রতি ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে গাছে যে হারে ফলন এসেছে, তাতে করে খরচ-খরচা বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার মতো লাভ হবে বলে আশা করেন এই তরুণ উদ্যোক্ত। তবে সরকারিভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করলে আনার ফলের চাষ আরও বৃদ্ধি করবেন বলে জানান সাদ্দাম হোসেন।
স্থানীয় কৃষক আবুল কাশেম বলেন, ‘সাদ্দাম যখন এই চারা লাগাই, তখন এলাকার মানুষ তাকে পাগল বলত। কারণ এই মাটিতে কোনো দিন আনার ফল চাষ করা যায় না, এসব ফল হয় পাহাড়ে। ওই এলাকার ফল কোনো দিন আমাদের এলাকায় হবে না। কিন্তু সাদ্দাম তা প্রমাণ করে দিয়েছে যে এ মাটিতেও আনার ফল চাষ করা সম্ভব। এখন তার গাছে যে হারে ফল ধরেছে, তা তাক লাগানোর মতো। আসলে জীবননগরের মাটিতে জাদু আছে। এ মাটিতে সব ধরনের ফলের চাষ করা সম্ভব।’
আনার ফল বাগান দেখতে আশা মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরের আব্দুর রহমান বলেন, ‘জানতে পারি জীবননগরে বিদেশি ফল আনারের চাষ হচ্ছে। আমি শুনে আশ্চর্য হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু এখানে এসে গাছে ফল দেখে আমি হতবাক হয়ে পড়েছি। আমাদের দেশে আনার ফলগাছে এত ফল দেখে প্রতিটি ডালেই ফল ধরেছে। সাদ্দাম ভাইয়ের আনার ফল চাষ দেখে আমি অনেক খুশি। আমিও আগামীতে আনার ফল চাষ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
জীবননগর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সাদ্দাম হোসেন একজন তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি ইত্যেমধ্যেই বেশ কিছু নতুন ধরনের ফলের চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। জীবননগর উপজেলায় এবার সর্বপ্রথম সাদ্দাম হোসেন বাণিজ্যিকভাবে বারোমাসি আনার ফল চাষ করছেন। তাঁর গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছি এবং আগামীতেও করব।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।