চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৩ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অর্থনীতিতে অস্থিরতা কমছে না; মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে পদক্ষেপ নিন

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ৩, ২০২২ ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অর্থনৈতিক অস্থিরতা সহনীয় করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। তার পরও ধারাবাহিক পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যাচ্ছে না। তেলের পর চালের বাজার অস্থির অবস্থায় রয়েছে। নতুন নতুন পণ্যের দাম বাড়ছে। এর মধ্যে ডলারের উচ্চমূল্য ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বারবার টাকার বিপরীতে এর মান নির্ধারণ করে দিচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে সরকার এর ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। আমদানি উল্লম্ফন ঠেকাতে কিছু বিলাসদ্রব্য আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়েনি। আমদানির ঊর্ধ্বগতিও রোধ করা যায়নি। অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের প্রাণপণ চেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটুকু সফল হয় বোঝা যাচ্ছে না।

চলতি বছরে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক আয়-ব্যয় মোকাবেলায় বাংলাদেশকে অচিরেই সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার মে মাসে বিদেশী মুদ্রা পাঠানোর নীতিমালা শিথিল করেছে। আগে যেখানে কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়া পাঁচ লাখ টাকা পাঠানো যেত, এখন কোনো ধরনের ডকুমেন্ট প্রদর্শন ছাড়াই যেকোনো অঙ্কের অর্থ বিদেশ থেকে পাঠানো যাবে। তার ওপর সরকার আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কেউ এক কোটি টাকা পাঠালে আড়াই লাখ টাকা নগদ পাবেন। নতুন নীতি ঘোষণার পরও দেখা গেল, বিদেশ থেকে মুদ্রা প্রেরণ বাড়েনি। বরং কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে। মে মাসেই দেখা গেছে, আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম বিদেশী মুদ্রা এসেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের চেয়েও তা কমেছে। সরকার আশা করছে, কোরবানি ঈদ সামনে রেখে মুদ্রাপ্রবাহ বাড়তে পারে।
ডলারের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায় সরকার আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে। এপ্রিলের মাঝামাঝিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পণ্য আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। শিশুখাদ্য, জ্বালানি, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল এবং কৃষি খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য ছাড়া বাকি আমদানি পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। এরপর ১০ মে বিলাসপণ্যসহ আরো কিছু পণ্য আমদানিতে আরো কড়াকড়ি আরোপ করে। গত মঙ্গলবার প্রকাশ পাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে জানা যায়, বিধিনিষেধ আরোপের পরও বেশি আমদানির প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে গড়ে ৭ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। বিধিনিষেধের পরও আমদানির এ অস্বাভাবিক ধারার সাথে মুদ্রাপাচারের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না সেটা তলিয়ে দেখা যেতে পারে।
মুদ্রাবাজারের স্থিরতা ধরে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড়ছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ছয় বিলিয়ন ডলার বাজারে ছেড়েছে। গত মঙ্গলবার এক দিনে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার ছেড়েছে। এর মধ্যে বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৪২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এভাবে ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উচ্চহারে ডলার ছাড়া অস্বাভাবিক। তার পরও ডলারের চাহিদা সমন্বয় হচ্ছে না। বোঝা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কৃত্রিম প্রচেষ্টা এক পর্যায়ে আরো অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। মুদ্রারভাণ্ডার সীমিত হয়ে গেলে এর দরও সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের একটা গোঁজামিল বেশ কয়েক বছর থেকে লক্ষ করা যাচ্ছে। কালো টাকার অর্থনীতি দেশের সাদা টাকার অর্থনীতিকে গ্রাস করতে চলেছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই কালো অর্থনীতি আমাদের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমান সরকার আগে থেকে প্রত্যেকটি সঙ্কটকে ‘উপস্থিত মোকাবেলা’ করার নীতি নিয়ে চলেছে। ন্যায়নীতি সেখানে খুব কমই প্রাধান্য পেয়েছে। এতে উপস্থিত সমস্যার সমাধান হয়েছে কিন্তু এর ফলে যে অব্যবস্থাপনা হয়েছে সেগুলো এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সর্ব বিস্তারিত দুর্নীতির সূত্রে বিদেশে মুদ্রাপাচার ভেতর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রকৃতপক্ষে দুর্বল করে রেখেছে। সরকারের উচিত সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং টেকসই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতিপদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিকে সঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনা। অন্যথায় শ্রীলঙ্কার মতো ভয়াবহ বিপর্যয় আমাদেরও পেয়ে বসতে পারে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।