অরিন্দমের পরিবেশনায় মঞ্চে ‘ক্ষুদিরামের ফাঁসি’

1316

চুয়াডাঙ্গায় সপ্তাহব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের ৬ষ্ঠ দিনেও প্রাণজ্বল দর্শকসারি
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাত দিনব্যাপী ‘সাংস্কৃতিক সপ্তাহ-২০১৮’-তে ‘ক্ষুদিরামের ফাঁসি’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় সাত দিনব্যাপী উৎসবের ৬ষ্ঠ সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার অরিন্দম সংস্কৃতিক সংগঠন নাটকটি মঞ্চায়ন করে। টাউন ফুটবল মাঠে আয়োজিত উৎসব মঞ্চে নাটকটি মঞ্চায়ন করা হয়। এদিকে সন্ধ্যায় শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক আয়োজন ও পরে নাটক দেখতে হাড় কাপানো শীতের রাতেও দর্শক সমাগম ছিল আশানুরুপ। রাত ৮টা থেকে শুরু হওয়া নাটকটি দীর্ঘ দু’ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশনার মধ্যদিয়ে শেষ হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও পৃষ্ঠপোষকতার মনোভব লক্ষ্য করা গেছে। দর্শক সারিতে বসে নাটক উপভোগ করেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বজলুর রহমান জোয়ার্দ্দার রচিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন এহসানুর রহমান। সহযোগী নির্দেশনায় ছিলেন ইউনুস আলী শাওন, আবহ সঙ্গীত শাহিন ইকবাল, বাদ্যযন্ত্র সজীব, সমন্বয়কারী আব্দুল মোমিন টিপু।
মূল নাটকের প্রধান ক্ষুদিরাম বসু চরিত্রে অভিনয় করেন হিরন উর রশিদ শান্ত, এ ছাড়া অন্যান্য চরিত্রে হারুন অর রশিদ, মো. আলাউদ্দীন, ইউনুস আলী শাওন, ইয়াকুব আলী জোয়ার্দ্দার, বজলুর রহমান জোয়ার্দ্দার, আব্দুস সালাম সৈকত, সেলিমুল হাবিব সেলিম, নাফিউ, ওসমান, বিপ্লব, জনি, মানিক, আমিনুজ্জামান সুমন, সাহিন কাদির, শ্রুতি, মাসুদ রানা, উলাউদ্দিন উমর, তামান্না, জ্যোতি, আন্নি, শ্রাবণি, সুরাইয়া প্রমূখ।
উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সম্ভবত প্রথম প্রকাশ্য শহীদ ক্ষুদিরাম বসু। এই ঐতিহাসিক সত্য ঘটনাকে নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসার প্রয়াসে এই নাট্য আয়োজন। ইতিহাস-সন্তান ‘ক্ষুদিরাম’ নামটি আমাদের কাছে যতটুকু পরিচিত তার বীরত্বগাঁথা, জীবনী ততটাই অজ্ঞাত। ‘ক্ষুদিরামকথার’র মধ্য দিয়ে ‘ক্ষুদিরামের ফাঁসি’ মঞ্চায়নের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে সেই বীরত্বপূর্ণ জীবনগাঁথা উপস্থাপন করা হয়েছে। বস্তুত বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুসহ এরকম অসংখ্য বিপ্লবীসত্তার আত্মদান পরবর্তীতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের গতিপথকে প্রস্তুত করে এবং প্রায় দু’শ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটায় হাসি মুখে ফাঁসির দড়ি গলায় পরে; যা এই নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবের আজ সমাপনী সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের বাউল দল লোক সংগীত পরিবেশন করবেন। পরিশেষে সরগম সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় যাত্রানুষ্ঠান ‘সাত পাকে বাঁধা’র মধ্যদিয়ে এ আয়োজনের পর্দা নামবে।