অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

39

হিজরাকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ
ঝিনাইদহ অফিস:
নাছরিন আক্তার নামে এক হিজড়াকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দাযেরকৃত মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের লুসানুর রহমান (লুসান) নামে এক যুবকের নামে। এই মামলায় লুসানের পিতা খাসিয়ার রহমান ও মা দিপিকা বেগমও আসামি রয়েছেন। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শৈলকুপা থানায় আসার পরও এখনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। গত ৬ এপ্রিল মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালত থেকে এই আদেশ জারি করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে হিজড়া নাছরিনের সঙ্গে পরিচয় হয় শৈলকুপা উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের খাসিয়ার রহমানের ছেলে লুসানের। লুসান তখন তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিলেন। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি নোটারি পাবলিকে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্যে তাঁদের বিয়ে হয়। এজাহারে বাদীর ভাষ্যমতে, বিয়ের আগে ও পরে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে লুসান ব্যবসার কথা বলে ১৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরে আরও ৪ লাখসহ সর্বমোট ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকা নেওয়ার পর লুসান স্ত্রী নাছরিনকে এড়িয়ে চলে। টাকার জন্য ঘুরতে থাকলে লুসান বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি ও তিনি কোনো টাকা নেয়নি বলে অস্বীকার করতে থাকেন। নিরুপায় হয়ে নাছরিন স্বামী লুসানের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জের আদালতে ৪২০, ৪০৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা করেন, যার মামলা নম্বর সিআর-১৪৭।
শৈলকুপার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘লুসানের সঙ্গে হিজড়া নাছরিনের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের সূত্রে বিজুলিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন সংসার করেছেন নাছরিন। এ বিষয়ে নাছরিন ও তাঁর পরিবার অনেকবার আমার কাছে এসেছিল। তাদেরকে আমি আইনি আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছি।’
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘আদালতের ওয়ারেন্ট এসেছে কি না জানি না। তবে আসলে অবশ্যই আসামি গ্রেপ্তার হবে।’ শৈলকুপা থানার বকশি ইকবাল হোসেন জানান, দুই দিন আগে ওয়ারেন্ট এসে থানায় পৌঁছেছে। আসামি গ্রেপ্তারের জন্য এখনো কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।