চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিযুক্তরা যেন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পার না পায়

সমীকরণ প্রতিবেদন
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৯ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের ধরতে মাঠে নামছে দুদক। প্রভাবশালী এবং শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের ধরলেই দুর্নীতির চিত্র অনেকটা পাল্টে যাবে বলে মনে করছি। এখন দেখার বিষয় প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের দমনে দুদক কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে। দুদকের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে এবং দেশে অনিয়ম-দুর্নীতি হ্রাস পাবে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি স্কুল শিক্ষকদের কোচিং নিয়ে সরকারের করা নীতিমালা বিষয়ে রিটের শুনানিতে একপর্যায়ে হাইকোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকলাপে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে; আর শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক।
আদালত বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রাঘব-বোয়ালদের ধরে এনে ছেড়ে দেয় দুদক। দুদক নিয়ে উচ্চ আদালতের এ ধরনের মন্তব্যে কিছুটা নড়েচড়ে বসেছেন স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতনরা। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার ছিল। যার অন্যতম ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ। যেখানে বলা হয়, দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও আইনের প্রয়োগ মুখ্য হলেও তা শুধু সরকারের দায় নয়, জনগণেরও দায় রয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে এখন পর্যন্ত দুদকে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কয়েক হাজার অভিযোগ এসেছে। দুদক কৌশলগত কারণে ওই অভিযোগ নিয়ে কাজ করেনি। তবে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে এর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। সরকার চাইছে, আর্থিক খাতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হোক। এরপরই রয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে কমিশনে রূপান্তরের পর ওয়ান-ইলেভেনের দুই বছর বাঘের মতো জোরালো ভূমিকা পালন করেছিল দুদক।
এরপর আবার প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় সংস্থাটি। কিন্তু ২০১৬ সালে মার্চ মাসে কমিশন পুনর্গঠনের পর আবার জেগে ওঠার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। কমিশন পুনর্গঠনের পর সারাদেশে জোরদার করা হয় গ্রেপ্তার অভিযান। ওই অভিযানে সারাদেশে প্রায় চার শতাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুদকের অ্যাকশন দেখে জনপ্রশাসন, ব্যাংক ও সরকারি বিভিন্ন অফিসে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে।
তবে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, শতাধিক আসামি দুদকের অগোচরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে গেছেন। অনেকে কারামুক্তি পেয়েই আত্মগোপন করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র বলছে। আসামিদের জামিনের ক্ষেত্রে দুদকের কিছু আইনজীবীর উদাসীনতা ও অবহেলাকেই মূলত দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমরা চাই, দুদক একটি মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি দমনে সুষ্ঠু ভূমিকা পালন করুক। এ ক্ষেত্রে সংবাদ মাধ্যম ও নাগরিক সমাজকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সব পক্ষ আন্তরিক হলে দেশকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত করা কঠিন হতে পারে না। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তরা যেন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পার পাওয়ার চেষ্টা না করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।